সৈয়দ আশরাফ-ফারুক দু’জনই চূড়ান্ত মনোনীত: গুজবের অবসান

0

সময় এখন ডেস্ক:

অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশেষে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। একইসাথে ঢাকা-১৭ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। অবসান ঘটলো সকল আশঙ্কার।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শুক্রবার জেলা রিটার্নিং অফিসারকে আওয়ামী লীগ মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো।

অপরদিকে আজ শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চিত্রনায়ক ফারুকের হাতে চিঠি তুলে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন। ফুসফুসের ক্যান্সারের ৪র্থ পর্যায়ে থাকা জনপ্রিয় এ নেতা শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সংসদ থেকে ৩ মাসের ছুটি নিয়েছেন। গত বছর স্ত্রী শীলা ইসলামের মৃত্যু হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

এর আগে এই আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুনকেও দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়। এরপর থেকেই ওই আসনে কে পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন তা নিয়ে নেতাকর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন। সৈয়দ আশরাফকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে ৪ বার এমপি হন। দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, এলজিআরডি মন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসনমন্ত্রী।

ঢাকা-১৭ আসনে ফারুকের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে:

রাজধানীর গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাসানটেকের কিছু অংশ নিয়েই ঢাকা-১৭ আসন গঠিত। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ) আসন থেকে নায়ক ফারুক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই আসন থেকে দলের পক্ষে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যৌথভাবে লড়াইয়ের টিকেট পান।

এই আসন থেকে ফারুকের শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন কেউ কেউ। তৈরি হয়েছিল জটিলতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গুজব। তবে সেসব যে অসত্য ছিল তা ফারুকের জনপ্রিয়তা এবং দলের মনোনয়ন পাওয়াতে প্রমাণ হলো।

ফারুক বলেন, নেত্রী আমার ওপর আস্থা রাখবেন আমি জানতাম। আমার বিশ্বাস সত্য হলো। আজ সকালে দলের পক্ষে নানক সাহেব ও ওবায়দুল কাদের ভাই আমাকে ফোন দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করলেন। পার্টি অফিস থেকে মনোনয়নের চিঠিটি সংগ্রহ করতে বললেন।

ওই আসন থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ২০১৪ সালে নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের এস এম আবুল কালাম আজাদ।

শেয়ার করুন !
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!