বাসে আগুন: সন্দেহের তালিকায় বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন নেতা

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে আত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীতে। পুলিশের একটিসহ ১০টি বাসে আগুন লাগায় দু’র্বৃত্তরা। যার পেছনে বিএনপি জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা শুরু থেকেই আন্দাজ করা হচ্ছিলো। পরে রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজে একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ করে। যাতে বিএনপি নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন এবং ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়ের মধ্যকার কথোপকথন শোনা যায়। তাতে জানা যায়, যুবদল এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন এবং শাহবাগ থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সমস্ত মামলায় ১৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫ জন। ২৮ জনের আজ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, এই মামলায় দুই ধরনের অভিযুক্ত রয়েছেন। প্রথমত, যারা সরাসরি এ সমস্ত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয়ত, যারা এই ঘটনার পরিকল্পনা করেছেন এবং নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করেছেন।

গত ক’দিন ধরেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়সহ দলের কয়েকজন নেতা ক্রমাগত মিথ্যাচার এবং সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বক্তৃতায় উ’স্কানিমূলক অনেক কথাও বলেছেন তারা। যা ইন্ধন যোগাতে পারে বলে অনেকের অভিমত।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা ১৮ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে উত্তে’জনা সৃষ্টির জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এই উপনির্বাচনের আগে থেকেই সহিং’স ঘটনার পরিকল্পনার তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এই ধরনের পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে বিএনপি এবং জামায়াতের ৫ জন নেতার নাম এখন আলোচনায় এসেছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, তারা এ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছ্নে এবং খুব শীঘ্রই এ ঘটনার মূল সূত্র ধরে ফেলতে পারবেন।

এই ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় এখন পর্যন্ত যারা আছেন তারা হলেন,

১। এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন: ঢাকা ১৮ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন এই ঘটনার অনেক আগে থেকেই উ’স্কানি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনে যদি ভোটারদের ভোট দিতে না দেয়া হয় তাহলে তিনি ঢাকার শহর অ’চল করে দিবেন।

২। মির্জা আব্বাস: পরিকল্পনা প্রণয়ন ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নাম এসেছে, তিনি নিজেই একজন পরিবহন মালিক। কোন পরিবহনগুলোতে আগুন লাগালে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে, সে সম্পর্কে তিনি ভাল বোঝেন। পরিকল্পনার বিষয়ে তার নাম শোনা যাচ্ছে।

৩। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: যুবদলের সাবেক নেতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও পরিকল্পনার সাথে যুক্ত বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তিনি গত কিছুদিন ধরে উ’স্কানিমূলক বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছিলেন। সরকার পত’নের চূড়ান্ত আন্দোলন করার ঘোষণাও তিনি মাত্র ২ দিন আগে দিয়েছিলেন।

৪। হাবিবুন নবী খান সোহেল: বাসে আগুন দিয়েছে যারা, তারা সোহেলের ক্যাডার বলে একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। সোহেল ঢাকা উত্তরের বিএনপি নেতা এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে তার একটা নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর তৈরী নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই এই ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

৫। নুরুল ইসলাম বুলবুল: ঢাকা দক্ষিণ সিটি জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এ ঘটনায় জড়িত বলে কিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পল্টন, কাঁটাবন এলাকায় শিবির এবং জামায়াতের কর্মীরা বাসে আগুন দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এ সংস্থাগুলো বলছে, তারা এটা নিয়ে আরো কাজ করছেন এবং আরও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্য প্রমাণের প্রেক্ষিতেই তারা হয়ত শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 353
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply