বাইডেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সরকারের লোকেরা বাস পুড়িয়েছে: জাফরুল্লাহ

0

সময় এখন ডেস্ক:

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমেরিকার নতুন প্রেসি‌ডেন্ট জো বাইডেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই গতকাল বাস পোড়ানো হয়েছে। জো বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর সবাইকে ফোন দিয়েছেন, কিন্তু শেখ হাসিনাকে ফোন দেন নাই। আর তাই জো বাইডেনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গতকাল সরকারের লোকেরা বাস পুড়িয়েছে। তিনি (শেখ হাসিনা) বোঝাতে চেয়েছেন, এ দেশে সন্ত্রা’স আছে। দ’মন করতে হলে তা‌কে দরকার।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে এক নাগরিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। [যু’দ্ধাপরাধী হিসেবে আদালতের রায়ে ফাঁ’সি হওয়া জামায়াত নেতা রাজাকার কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার কারণে আদালত অব’মাননার দায়ে রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।]

জাফরুল্লাহ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কবরে শায়িত। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি আল্লাহু আকবার বলে এটা (গণতন্ত্র) মাটি চা’পা দেব? নাকি হরিবোল বলে দাহ করব? এই গণতন্ত্র মুক্তির একটাই পথ আছে। তা হলো সম্মিলিতভাবে সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে।

বিএনপির উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করতে না পারলে সবচেয়ে বড় বিপদ হবে বিএনপির। খালেদা জিয়ার ওপর এত অত্যা’চার করা হচ্ছে তারপরও কীভাবে তারা সয়ে যাচ্ছে? বিএনপিও আন্দোলন করে না, আমরাও করি না। যেখানে ই’য়াবা ব্যবসায়ীরাও সবাই জামিন পায়, সেখানে খালেদা জিয়ার জামিন হয় না, সম্পাদক আবুল আসাদের জামিন হয় না, এর চেয়ে দু’র্ভাগ্যজনক ঘটনা আর কী হতে পারে। এটা অত্যন্ত নি’ন্দনীয়।

তিনি বলেন, আমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি এত কিছু বোঝেন; কিন্তু ওনার বন্ধুদের চেনেন না, এটাই হচ্ছে জাতির দু’র্ভাগ্য। একটা সরকারের সবচেয়ে বড় বন্ধু হচ্ছে সাংবাদিক, যারা বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এখানেই তাঁর জীবনের বড় ভুলটা করছেন। সাংবাদিকদের আপনি যত বেশি কথা বলতে দেবেন, আপনার গোয়েন্দাবাহিনীর চেয়েও আপনি বেশি তথ্য পাবেন। তাতে আপনি লাভবান হবেন।

আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা শেখ হাসিনার কাঁধে ভর দিয়ে আর কত দিন চলবেন। আপনাদের আজ সোচ্চার হতে হবে। তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী- আপনারা কথা বলেন। আপনারা তো সব কিছুই দেখছেন, চশমা ব্যবহার করলেও আপনারা তো অন্ধ না। তা না হলে দেশের সামনে সমূহ বিপদ।

এ সময় রাজাকার কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ আখ্যাদানকারী সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারের তীব্র নি’ন্দা জ্ঞাপন করেন।

নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপ‌তি‌ত্বে সভায় আরো উপ‌স্থিত ছি‌লেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন রোকন, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ,

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন প্রমুখ।

শেয়ার করুন !
  • 825
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply