স্বামী কোকোর বন্ধুর প্রতি শর্মিলার আগ্রহেই কি বাদ পড়লো মিলন?

0

সময় এখন ডেস্ক:

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীর সুপারিশে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেনকে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে দলের একটি সূত্রে জানা গেছে। আর তাতে বাদ পড়েছেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের মত হেভিওয়েট প্রার্থী।

এ নিয়ে মিলনের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, মালয়েশিয়া প্রবাসী মোশাররফ হোসেন এলাকায় অপরিচিত। এলাকার রাজনীতিতে কখনো দেখা যায়নি তাকে। মালয়েশিয়াতে ব্যবসা করেন। থাকেনও সেখানে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের আবদার রাখতে গিয়ে বাদ দিতে হয়েছে মিলনকে। কারণ শর্মিলার পছন্দের প্রার্থী মালয়েশিয়া প্রবাসী মোশাররফ হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। পরে তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান এবং জাফিয়া রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার জন্য যান। পরে আর দেশে ফেরেননি। মালয়েশিয়াতে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কোকো। ২৯ জানুয়ারি স্বামীর মরদেহের সঙ্গে দুই মেয়েকে নিয়ে শর্মিলা রহমান দেশে এসেছিলেন। কোকোর মরদেহ দাফনের পর পরের বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের নিয়ে তিনি ফিরে যান মালয়েশিয়ায়। সেই থেকে সেখানেই আছেন।

প্রয়াত স্বামী কোকোর বন্ধু এবং তার যাবতীয় অর্থ বিত্তের হদিস জানা মালয়েশিয়া প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের সাথে শর্মিলার এত দহরম মহরম নিয়ে খোদ দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। নির্বাচনের দায়িত্ব পেতে না পেতেই মিলনের মত জনপ্রিয় প্রার্থীকে কেন সরিয়ে দেয়া হয়েছে, সিনিয়র নেতারা তার কৈফিয়ত চাইছে বলে সূত্র জানায়।

এদিকে মনোনয়নবঞ্চিত মিলনের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা দলের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। শুক্রবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরপরই মিলনের সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। শনিবার দুপুরে তারা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা মিলনের পক্ষে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে চাঁদপুর-১ আসনে দলের প্রার্থী পরিবর্তনে ১২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে তালা খুলে দেন।

বিক্ষোভরত কর্মীদের মধ্যে চাঁদপুরের কচুয়া থানা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। তাদের অভিযোগ, এহছানুল হক মিলনের জায়গায় চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনকে এলাকায় কেউ চেনেন না। সারাজীবন তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন। অন্যদিকে এহছানুল হক মিলন ৫ বছর দেশের বাইরে থাকলেও তার সঙ্গে এলাকার মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এখনো তিনি কারাগারে আছেন, তার ত্যাগকে মূল্যায়ন করা হয়নি।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply