পাকিস্থানি নাগরিক হয়ে যান বাংলাদেশি, দূতাবাস কর্মকর্তাদের জাদুতে!

0

প্রবাস ডেস্ক:

জেদ্দায় বাংলা্দেশ কনস্যুলেটের প্রধান সচিব জনাব জামিল খানের দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রমাণসহ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপ’ব্যবহার করে হতিয়ে নিয়েছেন বিশাল অঙ্কের অর্থ। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার পাশাপাশি তার রয়েছে স্বদেশ এবং বিদেশের মাটিতে ক্ষমতাশীল রাজানৈতিক ব্যক্তিদের সুনজর। যার বদৌলতে তিনি এমনকি রাষ্ট্রবিরো’ধী কাজ করতেও পিছপা হননি।

মালকা বেগম নামক একজন পাকিস্থানি নারী, জন্ম তারিখ- ১ এপ্রিল ১৯৮৪, পাকিস্থানি পাসপোর্ট নাম্বার- QU3959481, ইস্যুর তারিখ- ১৬ জুন ২০১৫, মেয়াদ শেষের তারিখ- ১৪ জুন ২০২০, জন্মস্থান- করাচি, পিতা- নূর-উল-সাফাহ। যাকে জনাব জামিল খান অ’বৈধভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দা থেকে ইস্যুকৃত মালকা বেগমের বাংলাদেশ পাসপোর্ট নাম্বার- BY0730074, জন্ম তারিখ- ৩ এপ্রিল ১৯৮৪, ইস্যুর তারিখ- ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, মেয়াদ শেষ হবে- ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট নাম্বার F1364800 (ভুয়া)। মালকা বেগমের বাংলাদেশী পাসপোর্টে কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর করেছেন প্রধান সচিব জনাম মোস্তফা জামিল খান। উপরোক্ত তথ্যের প্রমাণস্বরূপ জনাম মালকা বেগমের পাকিস্থানি এবং বাংলাদেশী পাসপোর্টের কপি সংযুক্ত করা হলো।


ছবি: পাকিস্থানি নাগরিক মালকা বেগমের পাকিস্থানি এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট

মোস্তফা জামিল খানের দুর্নীতির সীমা ‍নির্ধারণ সাধারণ মানুষের ক্ষমতার বাইরে। গত বছর করোনা পূর্বকালীন হজ চলাকালীন সময়ে ‍তিনি ৬৯টি অ’বৈধ পাসপোর্ট প্রদান করেছেন যার প্রতিটি পাসপোর্ট বাবদ তিনি নিয়েছেন ৩০,০০০ হাজার সৌদি রিয়াল। যা বাংলাদেশি টাকায় ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। হজ চলাকালীন সময়ে যখন অন্য কর্মকর্তারা হজে আসা বাংলাদেশিদের তত্ত্বাবধায়নে ব্যস্ত, তখন তিনি তার অফিসিয়াল ID এবং Password ব্যবহার করে ইস্যু করেছেন ঐ অ’বৈধ ৬৯টি পাসপোর্ট। তার এই অপ’কর্ম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদন্তে রয়েছ। সূত্র মারফত জানা যায়, মোস্তফা জামিল খানের আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে ঢাকার নিকুঞ্জে। এ ছাড়াও নামে এবং বেনামে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

ইডিসি (একটি বেসরকরি প্রতিষ্ঠান, যারা কনস্যুলেটরের অনুমতিক্রমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে) যা মোস্তফা জামিল খানের দুর্নীতির আরেকটি উদাহরণ। তার এই দুর্নীতির সহযোগী ছিলেন সাইফুল ইসলাম, যিনি কাজ করতেন “আল ফায়জা” কোম্পানীর সাথে। জেদ্দায় ইডিসির আরেকটি কার্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মোস্তফা জামিল এবং সাইফুল ইসলামের যোগসাজশে, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে অনুমতি পত্র বের করে। ইডিসির জেদ্দাস্থ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জামিল খান ৩ লক্ষ রিয়াল অগ্রিম নিয়ে নেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দেবার নাম করে। পরবর্তীতে তাদের এই দুর্নীতির কথা প্রকাশ পেলে জেদ্দাস্থ ওই ইডিসি কার্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যার ফল স্বরূপ ১ হাজার ৬০০টি পাসপোর্ট এর কাজ বন্ধ হয়ে যাায়। উল্লেখ্য, সাইফুল ইসলাম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট শেয়ার করেন, যার নাম “প্রবাসে সাতকাহন”। যেখানে তিনি বিভিন্ন পোষ্ট এবং লাইভের মাধ্যমে তার ইডিসি কার্যালয়ের প্রচারণা করেন।


ছবি: সেই ৬৯টি পাসপোর্টের নাম্বার

গত ৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখে জেদ্দা কনস্যুলেটের একটি দল আসে জেজান শহরে পাসপোর্ট সেবা প্রদানের জন্য। ওই সময় যে ১ হাজার ৬০০টি পাসপোর্টের কাজ বন্ধ হয়েছিলো জেদ্দার ইডিসি কার্যালয় বাতিল হওয়ার কারণে, তা জামিল খান সম্পন্ন করেন তার এই সফরে। জামিল খানের এই দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায় আবু হুরায়রা রনি, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর, জেদ্দা কনস্যুলেট এর মাধ্যমে (ফোন নাম্বার- ০৫৩৪১৬৯৬৯০)। যিনি মোস্তফা জামিল খানের সাথে ঐ দিন জেজানে অবস্থান করেছেন। রনি আরো জানান, তিনি জামিল খানের নির্দেশে ১ হাজার ৬০০টি পাসপোর্টের মেমো করেন ১১ অক্টোবর, যা ছিল সম্পূর্ণ বে-আইনী। উল্লেখ্য, জামিল খানের জেজান সফরে তার সাথে যোগ দিয়েছিলেন তার বরাবরের সহযোগী আজাদ রহমান।


ছবি: সাইফুল ইসলামের আল ফায়েজা প্রবাসী সেবা কেন্দ্রের পোষ্টে জামিল খানের লাইক

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, বংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দায় বদলি হওয়ার পরের বছরেই তিনি সোনালী ব্যাংকের মাধমে দেশে পাঠিয়েছেন ৬০ লক্ষ টাকা। এরপর জানাজানি হয়ে গেলে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো শুরু করেন, এছাড়াও আরো জানা যায়, ঢাকায় তার দুটি বাড়ি রয়েছে। মোস্তফা জামিল খান বদলি হওয়া স্বত্ত্বেও কোন এক জাদুকরী মন্ত্রে এখনও বহাল তবিয়তে অবস্থান করেছেন জেদ্দা কনস্যুলেট এবং চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপ’কর্ম। তার বদলি স্থ’গিত হওয়ার সাথে সাথে তিনি জেদ্দাস্থ ইডিসি কার্যালয়ের কাছে দাবী করেন ৪০ হাজার সৌদি রিয়াল প্রবাসী সেবা কেন্দ্র আল মামল এর কাছে। কারণ হিসাবে বলেন, একই জায়গায় দুইজন (HOC) সরকারীভাবে বরাদ্দ নাই।


ছবি: মোস্তফা জামিল খানের দোসর আজাদ রহমানের সাথে সাইফুল ইসলাম

মোস্তফা জামিল খানের মতো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা আর কত অপ’কর্ম করলে টনক নড়বে বাংলাদেশের সরকারের? আর কত প্রমাণের প্রয়োজন এমন অ’সৎ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য?

শেয়ার করুন !
  • 361
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!