মাদ্রাসা দখলদার মামুনুল হক নীতির কথা বলেন কোন মুখে?

0

সময় এখন ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে কওমী অঙ্গনে একটি আলোচিত ও সমালোচিত নাম মাওলানা মামুনুল হক। স্ব-ঘোষিত স্বাধীনতাবিরো’ধী আজিজুল হক এর কনিষ্ঠ পুত্র, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশের মহাসচিব এবং যুব মজলিশের সভাপতি মামুনুল হক হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকার সাত মসজিদ রোডে অবস্থিত জামি’আ রহমানিয়া আরাবিয়া কওমী মাদ্রাসা একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, এই মাদ্রাসা বর্তমানে দখ’ল করে আছে যারা, তার মূল ক্রীড়নক মাওলানা মামুনুল হক গং।

দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মোতওয়াল্লীসহ মালিকগণের মামলা ও দাবির প্রেক্ষিতে ওয়াকফ্; প্রশাসন দখ’লদারকে স্থান ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ জারি করে। কিন্তু মামুনুল হক গং উক্ত মাদ্রাসাটিতে জোর করেই দখ’লদারিত্ব বজায় রেখেছে এবং অন্যান্য মাদ্রাসা দখলের সুক্ষ্ম পায়ঁতারা করছে। অথচ মামুনুল হকই বর্তমান সময়ের একজন নীতিবাগিশ এবং ইসলামী মোটিভেশনাল বক্তা!

মামুনুল হক বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সাম্প্র’দায়িক, সরকারবিরো’ধী, উ’স্কানিমূলক এবং বিভ্রা’ন্তিকর বক্তব্য প্রদান করে সাধারণ মানুষজন, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে উ’স্কানি দিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকারের সহনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দিন দিন লাগামহীন হয়ে যাচ্ছেন। আলেম সমাজের চোখে ধুলো দেওয়া মামুনুল হক আলেম সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতি কখনই কামনা করেন না, বরং নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করছেন।

এক্ষেত্রে, তার পিতা পাকিস্থানপন্থী হিসেবে পরিচিত মাওলানা আজিজুল হক এর অনুসারীদেরকেও বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছেন এবং তার দলে ভিড়াচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি পাশে পেয়েছেন কিছু অ’সাধু ব্যক্তি ও অনুসারীদের। একদিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নামাজের ছবি পোস্ট করেন, অন্যদিকে, প্রশিক্ষিত ও সুসংগঠিত সাইবার ইউনিট গড়ে তোলার মাধ্যমে বিভিন্ন রকম ষড়’যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে মেতে থাকেন।

আল্লামা শফীর ইন্তেকালের পর জানাজায় উপস্থিত অনুসারীর মধ্যে জামায়াত-শিবিরের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। জানাজার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের নেতৃবৃন্দকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এছাড়া, আহমদ শফীকে বহনকারী খাটিয়া জামায়াতের আমীর ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, রাজাকার সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী, সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমান এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবি, শিবিরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল আলিমসহ আনুমানিক ৩০/৪০ জন ঘিরে রাখে।

বিষয়টি নিয়ে কওমী আলেমসহ সারাদেশের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জানা যায়, মাওলানা মামুনুল হক সুকৌশলে জামায়াত-শিবিরের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে জামায়াতের সাথে হেফাজতের একটি সেতুবন্ধন তৈরির প্রচেষ্টা চালায়। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ে হেফাজতে ইসলামের সাথে জামায়ত-শিবিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে হেফজতে ইসলামকে জামায়াতের ছত্রছায়ায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। মামুনুল হকের স্ত্রী একসময় শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিল। শুধু তাই নয়, তার শ্বশুরকুলের আত্মীয় স্বজনদের সবাই প্রত্যক্ষভাবে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন মামুনুল হক। জানা যায়, বর্তমান কমিটির আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীকে ব্যবহার করে তিনি অনেক বয়োজ্যৈষ্ঠ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত হেফাজত নেতাদের টপকে এ পদটি বাগিয়ে নেন। এ নিয়ে হেফাজত নেতাদের মধ্যে ক্ষো’ভ রয়েছে। নিজ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বাবুনগরী ও কাসেমীকে ব্যবহার করছেন। বাবুনগরী ও কাসেমীকে সামনে রেখে হেফাজতের ব্যানারে বিভিন্ন জেলায় বিচরণ করলেও তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেকে হেফাজতের শক্তিশালী নেতা হিসেবে জাহির করা।

স্বাধীনতাবিরো’ধী আজিজুল হকের বড় ছেলে মাওলানা মাহফুজুল হক সম্প্রতি বেফাকের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশ এর মহাসচিব পদ থেকে ইস্তফা দেন। যে পদে বর্তমানে মামুনুল হক দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। জানা যায়, দলের মহাসচিবের পদটি পেতে তার ভাইকে শর্তানুযায়ী দলীয় পদ ছেড়ে বেফাকের মহাসচিব পদে বসাতে কলকাঠি নাড়েন। মাহফুজুল হক সাম্প্র’দায়িক এবং ষড়’যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে নীরব ভূমিকা রাখলেও মামুনুল হক যেন ঠিক তার উল্টো।

গত বছর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করে অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করে। সে সময় নিজ দল ও সমর্থকদের কাছে বিব্র’তকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন মামুনুল হক। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তখন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে সবশেষে অনুমতি পান। অথচ, এই মামুনুল হকই সরকার এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বিরু’দ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদগার করে বেড়াচ্ছেন। সমকাল।

শেয়ার করুন !
  • 986
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply