লস পুষিয়েও ১৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে কেরু

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

রাষ্ট্রায়ত্ব চিনিকলগুলো একের পর এক লসের বোঝা মাথায় নিয়ে যখন নিরাশার পথ দেখছে, ঠিক সে সময়ও ১৪০ কোটি টাকা লস পুষিয়ে এবং প্রায় ১৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।

জানা গেছে, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ও বায়োফার্টিলাইজার বিভাগ থেকে ৪৮ লক্ষ ৬৬ হাজার প্রুফ লিটার দেশী ও বিদেশি মদ উৎপাদন করে কোম্পানীর ডিস্টিলারী বিভাগ থেকেই মুনাফা অর্জন করেছে ১৫৩ কোটি টাকা। বায়োফার্টিলাইজারে ভিনেগার উৎপাদনে মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৩২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা, করোনাকালে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্বোধনের পর থেকেই শুরু হয় লাগাতার যান্ত্রিক ত্রু’টি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আখ মাড়াই মৌসুম শেষ করে চিনিকলটি। ২০১৮-১৯ রোপন মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার ধারে-কাছেও পৌছুতে পারেনি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি উৎপাদন বিভাগ। ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের মাড়াই দিবসে ৭ হাজার ৩৭৫ একর জমির আখ মাড়াই করে ৮, হাজার ২৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম না হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চিনি উৎপাদন বিভাগকে গুনতে হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

কেরু এ্যন্ড কোম্পানিতে রয়েছে ৯টি খামার। প্রতি বছরই খামারগুলোতে নানা ধরনের অ-ব্যবস্থাপনা ও একের পর এক দুর্নীতির কারণে এ অর্থ বছরে লস গুনতে হয়েছে ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির জৈব সার কারখানায় লস গুনতে হয়েছে ২২ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ৫টি বিভাগের মধ্যে চিনি উৎপাদন, সার কারখানা ও বাণিজ্যিক খামারে লস গুনতে হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকারের রাজস্ব খাতে ভ্যাট ও শুল্ক খাতে জমা দিতে হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট মুনাফার ৮৮ কোটি ৩৯ লক্ষ ২৯ হাজার টাকার মধ্যে চিনি উৎপাদন বিভাগ, সার কারখানা ও বাণিজ্যিক খামারের লস গুনতে হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা।

অপরদিকে, সরকারের খাতায় রাজস্ব এবং ৩টি বিভাগের লস মেটানোর পর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি মুনাফা অর্জন করেছে ১৩ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সবগুলো বিভাগের হিসাব মতে মুনাফা অর্জিত হয় ১৫৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের রাজস্ব বাবদ ৭৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে লাভ হয়েছিলো ৮৪ কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার টাকা। চিনি উৎপাদন বিভাগে লস মেটাতে হয়েছিল ৬৮ কোটি ৫৭ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা এবং বায়োফার্টিলাইজার বিভাগে ৫০ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা, বাণিজ্যিক খামারগুলোতে লস মেটানো হয়েছিল ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, কোম্পানীর পরীক্ষামূলক খামারে ২০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

এক কথায় বলতে গেলে চিনিকলের ডিস্টিলারী বিভাগ বাদে অন্যান্য ৪টি বিভাগে লস গুনতে হয় ৭৩ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। সরকারের রাজস্ব ও ৪টি বিভাগের লস মেটানোর পরেও কেরু অ্যান্ড কোম্পানী ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মুনাফা অর্জন করেছিল ১১ কোটি ৯ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। সে হিসেব মতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরের মুনাফার পরিমাণ বেশি।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ জানান, এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার জন্য আখ চাষ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিনিয়ত চাষীদেরকে আখ চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাগুলো নিরুপন পূর্বক নিরসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সবাই নিজ নিজ স্থানে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিলে কেরু কোম্পানিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। ঢাকাট্রিবিউন।

শেয়ার করুন !
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply