জেদ্দা দূতাবাসের দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও তার জবাব

0

সময় এখন ডেস্ক:

জেদ্দা কনস্যুলেট এর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে যথাযথ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে “সময় এখন ডট নেট”-এ পর পর দুটি সংবাদ প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সচেতন মহলের নজরে আসে। প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটিতে যুক্ত হয়েছে অভিযুক্তদের আলাপের অডিও ক্লিপ, ভিডিও ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোষ্ট, স্থিরচিত্র, লাইফ ট্যাগ, পাকিস্থানি নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে- তার বিস্তারিত তথ্য প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার নানা প্রমাণ।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ১৮ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে ‘অনলাইনলাইভ সংবাদ’-এ প্রকাশিত হয় একটি প্রতিবাদ। সেখানে ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রতিবাদ জানানো হলেও “সময় এখন ডট নেট”-এ প্রকাশিত সংবাদের সাথে সম্বলিত তথ্য প্রমাণগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারেননি।

যেভাবে পাকিস্থানি নাগরিক হয়ে যান বাংলাদেশি- সংবাদটির প্রসঙ্গে জেদ্দা কনস্যুলেট এর ফার্স্ট সেক্রেটারি জনাব মোস্তফা জামিল খান স্বপক্ষে যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন:

মোস্তফা জামিল খান ‘অনলাইননলাইভ’ এর কাছে দাবি করেন, “সময় এখন ডট নেট”-এ প্রদত্ত পাসপোর্ট নাম্বারগুলো, অর্থাৎ সেই ৬৯টি পাসপোর্ট গত বছর হজ চলাকালীন সময়ে তিনি ইস্যু করেননি।

এ বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এখন শুধু বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন। আশা করা যায়, সঠিক তদন্তের মাধমে জানা যাবে, আদৌ তার সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।

পাকিস্থানি মালকা বেগমের বাংলাদেশী পাসপোর্ট প্রদান প্রসঙ্গে:

​এ বিষয়ে মোস্তফা জামিল খান দাবি করেন, “সময় এখন ডট নেট” মালকা বেগমের যে দুটি পাসপোর্টের কপি প্রকাশ করেছে, তা এডিট করা। তিনি বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তির পূর্ববর্তী পাসপোর্ট থেকেই থাকে, সে ক্ষেত্রে তিনি নতুন একটি পাসপোর্টের আবেদন করতেই পারেন এবং সেটি ইস্যুও হয়ে থাকে। তবে এখানে মালকা বেগমের যে পাসপোর্টের ছবি দেওয়া হয়েছে, তা সম্পর্ণ ফটোশপ দিয়ে এডিট করে বানানো। এ দেশে (সৌদি আরব) বাংলাদেশের ভিসা প্রায় ১২ বছর বন্ধ ছিল। তখন অনেক বাংলাদেশিই এ দেশে আসার জন্য বা থাকার জন্য ইন্ডিয়া, পাকিস্থানের পাসপোর্ট কোন না কোনভাবে যোগাড় করেছেন। তা না হলে তাদের ইকামা এ দেশে দেয়া হচ্ছিল না। তাই অনেকেরই গোপনে একাধিক পাসপোর্ট থাকতো। এখন ই-পাসপোর্ট হলে এগুলো আর রিনিউ সম্ভব হবে না।’

মোস্তফা জামিল খানের দাবি অনুযায়ী, ইকামা পাওয়ার জন্য অনেকে অ’নৈতিক উপায়ে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। তা তিনি জানতেন এবং সজ্ঞানে তাদেরকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করে দিয়েছেন।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০০৮-১০১৬ সাল পর্যন্ত ৮ বছর বাংলাদেশ থেকে আসার ভিসা বন্ধ ছিল, ১২ বছর নয়। জামিল খানের দাবি আমলে নিলে, “সময় এখন ডট নেট”র প্রতিবেদক মালকা বেগমের বাংলাদেশী এবং পাকিস্থানি পাসপোর্টের কপি তৈরী বা এডিট করতেও পারেন, কিন্তু পাসপোর্টটিতে ফার্স্ট সেক্রেটারি মোস্তফা জামিল খানের স্বাক্ষর এবং যে ফাইলের মাধ্যমে তিনি ঐ পাসপোর্ট প্রদানের কাজটি সম্পন্ন করেছেন তার স্বাক্ষরিত সেই ফাইলটি কি এডিট করা প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হবে? বিষয়টি জামিল খানের ভেবে দেখা প্রয়োজন।

পড়ুন: জেদ্দা দূতাবাস কর্মকর্তাদের ঘুষ না দিলে মেলে না প্রবাসীদের আউটপাস (ভিডিও)

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বেসরকারি প্রবাসী সেবাকেন্দ্র ‘আল ফায়জা’র কর্ণধার সাইফুল ইসলাম প্রসঙ্গ:

সাইফুল ইসলামের প্রতিবাদ ৩টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ফেসবুক লাইভে এসে বলেছেন- বাংলাদেশের কিছু কাগজপত্র এখনো হাতে এসে না পৌছানোর জন্য সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থ’গিত রয়েছে। তার নিকট কিছু প্রশ্ন রাখা হলো:

১। কী সেই কাগজপত্র যা না থাকার কারণে আপনার সেবা কেন্দ্রের কাজ সাময়িকভাবে স্থ’গিত করা হয়েছে? ২। কোন দক্ষ এবং সৎ কর্মকর্তার সুনজরের কারণে যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই ইডিসির কার্য্যক্রম শুরু করেছিলেন? ৩। কোন যাদুমন্ত্রে আপনি ৩২২টি পাসপোর্ট এবং ২৬টি প্রবাসী কল্যাণ কার্ড জেদ্দা কনস্যুলেট অফিসে অনেক আগেই জমা দিতে সক্ষম হয়েছেন এবং জমাকৃত রশিদও আপনার কাছে আছে, যেখানে এই ইডিসি অফিস চালানোর অনুমতি এখনও আপনাকে দেওয়া হয়নি? ৪। কার সহযোগীতায় আপনি এই পাসপোর্টগুলোর বাহককে তাদের পাসপোর্ট যথাময়ে ফেরত দেবার ওয়াদা করেছেন? ৫। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দা একটি অ-বৈধ প্রতিষ্ঠানকে কেন এতগুলো পাসপোর্ট এবং প্রবাসী কল্যাণ কার্ড হস্তান্তর করবে, যারা এই কাজ পরিচালনার অনুমতি এখনও পাননি?

ফেসবুক লাইভে আপনি বলেছেন- অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়ে উঠেছে। এছাড়াও আপনি “সময় এখন ডট নেট”-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অথচ প্রতিবেদনে যথাযথ তথ্য প্রমাণ সমেত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম বলেছেন- “সুখে থাকতে ভূতে কি’লায়”। আপনার ভাষ্যমতে, আপনি বা আপনারা হচ্ছেন সুখে থাকা ব্যক্তি, আর “সময় এখন ডট নেট”র প্রতিবেদক হচ্ছেন সেই ভূত যার কারণে ঘুম ন’ষ্ট হয়েছে। সুখের উৎস যদি অন্যের ক’ষ্টার্জিত সৎ উপার্জন দ্বারা হয়, তবে ভূতের উপ’দ্রব দেখা দিতে পারে।

​সর্বশেষ আপনি উপদেশ দিয়েছেন- “কাজ না থাকলে গাছ লাগান”। আপনি নিশ্চয় জানেন, প্রবাসে বসবাসরত প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষ নিজেই একেকটি গাছ। যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্বারা অক্সিজেন পায় বাংলাদেশের অর্থনীতি। সমৃদ্ধশালী হচ্ছে সোনার বাংলা। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দেশের উন্নয়নে। যার ভিত্তি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। আপনাদের মতো সুখী মানুষরা অবশ্যই এই মানুষগুলোর ক’ষ্টের কথা জানেন। তাদের ওপর অ’বিচার করবেন না দয়া করে।

“সময় এখন ডট নেট” এ সংবাদ প্রকাশ এবং প্রমাণ উন্মোচনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মনীতির কারণে আরো কিছু প্রমাণ, অডিও, দাপ্তরিক গোপনীয় নথিপত্র প্রতিবেদনে প্রকাশ করা সম্ভব হলো না। তবে ইডিসি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ এবং এর সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন, তাদের আর্থিক লেনদেন, ফোনালাপ এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সংবাদের স্বচ্ছতা প্রমাণে প্রকাশিত হতে পারে।

যা না বললেই নয়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সংগ্রামের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা যে যেখানে কর্মরত আছি, আমাদের উচিৎ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন কর। এটাই সত্যিকারের দেশপ্রেম।

শেয়ার করুন !
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply