‘আর মাত্র ৩টি স্প্যান সহ্য করতে হবে দেশবিরোধীদের’

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

পৃথিবীর সবচেয়ে আনপ্রেডিক্টেবল নদীগুলোর মধ্যে আমাজনের পরই রয়েছে প্রমত্তা পদ্মা নদীর নাম। এই নদীর ওপর একটি দ্বিতল সেতু নির্মাণ বিশ্বের বড় বড় কনস্ট্রাকশন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় মাপের চ্যালেঞ্জ। বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর স্বনামধন্য অনেক কোম্পানি এই সেতু নির্মাণের প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, নিয়মিত এ থেকে জ্ঞান আহরণ করছেন বিশ্বসেরা প্রকৌশলীরাও।

যে নদীর তলদেশের মাটি এবং পানির স্রোত ভৌগলিক সকল নিয়ম-নীতির বাইরে এবং সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। ফলে এর ওপর সেতু নির্মাণের মত দুরূহ কাজটি স্বভাবতই বিপুল চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। কিন্তু বাংলাদেশে বসবাসরত এক শ্রেণির মানুষের কাছে পদ্মা সেতুর একেকটি স্প্যান যেন একেকটি গজাল। দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত সংবাদের নিচের মন্তব্যে চোখ বোলালেই দেখা যাবে তাদের হাসি-মশকরা আর দেশবিরোধী সব মন্তব্য।

তাদেরকে আর বেশি সহ্য করতে হবে না। মাত্র ৩টি স্প্যান বসে গেলেই সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজটি শেষ হবে।

মাত্র ৯ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর ৩৮তম স্প্যানটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটির ওপর স্প্যানটি স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে সেতুর এখন দৃশ্যমান হলো ৫ হাজার ৭০০ মিটার। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে তাই বাকি রইল মাত্র ৩টি।

পদ্মা সেতু কর্তপক্ষ জানিয়েছে, বিজয় দিবসের আগে অপর ৩টি স্প্যান স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নভেম্বরে আরও ১টি স্প্যান স্থাপন করা হবে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেন, কুমারভোগের কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি নিয়ে রওনা হয় ভাসমান জাহাজ ‘তিয়ান ই’। ‘১-এ’ নামের নামের স্প্যানটি খুঁটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর শুরু হয় বসানোর নানা প্রক্রিয়া। অ্যাংকরিংসহ অন্যান্য অনুষঙ্গিক কাজ শেষে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে স্প্যানটি স্থাপন করা হয়। এর আগে ১২ নভেম্বর মাওয়া প্রান্তের ৯ ও ১০ নম্বর খুঁটিতে ৩৭তম স্প্যানটি স্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই দ্বিতল সেতুর বাকি থাকবে আর মাত্র আধা কিলোমিটারের কম। জাজিরা প্রান্তে ২৯টি আর মাওয়া প্রান্তে ৯টি বসেছে ইতিমধ্যে। সবচেয়ে শুরুর স্প্যান হলেও এতো দেরিতে বসার কারণ, ইংরেজি ‘এইচ’ বর্ণমালা আকৃতির পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্প্যানের ডিজাইন আলাদা। এ স্থানের স্প্যানটির যন্ত্রাংশ চীন থেকে এসেছে অনেক পরে। এছাড়া অনান্য পিলারের চেয়ে ১ নম্বর পিলারের গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সাধারণত অন্য পিলারগুলোতে ৬ থেকে ৭টি পাইল ব্যবহার করা হলেও শক্তিশালী এ পিলারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৬টি পাইল। এ পিলার দিয়েই সেতুতে গাড়ি ও ট্রেন প্রবেশ করবে। তবে অন্য স্প্যানগুলো পানিতে বসানো হলেও ৩৮তম স্প্যানের একটি পিলার মাওয়া পাড়ে। মাটিতে পিলার থাকার কারণে স্প্যান নিয়ে ক্রেন আসার জন্য নদীর পাড়ের বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।

দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ড্রেজার চালিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়েছে মাটি। একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে স্প্যানবাহী ক্রেন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ৩৮তম স্প্যানটি বসানোর পর বাকি থাকলো আর মাত্র ৩টি স্প্যান।

এছাড়া সেতুর অন্যান্য কার্যক্রমও চলছে দ্রুত গতিতে জানিয়ে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেন, ইতোমধ্যে ১ হাজার ২১১টি রোডওয়ে স্লাব ও ১ হাজার ৮০০ রেলওয়ে স্লাব বসানো হয়ে গেছে। সংযোগ সেতু ও নদী শাসনের কাজও দ্রুত এগুচ্ছে। মূল সেতুর অগ্রগতি ৯১ শতাংশ আর সার্বিক অগ্রগতি ৮২ শতাংশ।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া পদ্মা সেতু ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  • 2.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply