দুবাই পালাতে চেয়েছিলেন গোল্ডেন মনির

0

সময় এখন ডেস্ক:

নব্বইর দশকে কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মজীবনের শুরু করেন মো. মনির হোসেন। এরপর ক্রোকারিজ ও লাগেজ ব্যবসা থেকে জড়িয়ে পড়েন স্বর্ণের চোরা কারবারে। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। মনির হোসেন থেকে হয়ে ওঠেন গোল্ডেন মনির।

শনিবার (২১ নভেম্বর) র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অভিযানে সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করা হয় তাকে। সকালেই দেশ ছাড়ার কথা ছিল গোল্ডেন মনিরের। তিনি দুবাই পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

রাতভর অভিযানের পর শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, মনিরের বাসা থেকে ৬০০ ভরি স্বর্ণ, বিদেশি পি’স্তল-গু’লি, অ্যালকোহলযুক্ত পাণীয়, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা সিজ করা হয়েছে। এছাড়া অনুমোদনহীন দুইটি বিলাসবহুল গাড়িও আটক করা হয়। গাড়ি দুইটির প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া তার অটো কার সিলেকশান নামে গাড়ির শো-রুম থেকে আরও ৩টি অনুমোদনহীন বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ২ শতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক গোল্ডেন মনির। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অসংখ্য প্লট হাতিয়ে নেন তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে ৩০টি প্লট ও ফ্ল্যাটের কথা স্বীকার করেছে মনির। গোল্ডেন মনিরের নামে দুদক ও রাজউকের মামলা রয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, গোল্ডেন মনিরের নামে বাড্ডা থানায় মা- দ’কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে, অ’স্ত্র আইনে ও বৈদেশিক মুদ্রা রাখায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। এছাড়া তার নামে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে দুদক, সিআইডি, বিআরটিএ, এনবিআর, রাজউকসহ সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হবে।

জানা গেছে, গোল্ডেন মনির নিজের নিরাপত্তায় লাইসেন্সকৃত দু’টি আগ্নেয়া’স্ত্র সঙ্গে রাখতেন। এর মধ্যে একটি পি’স্তল ও একটি শটগান। তবে বৈধ দু’টির পাশাপাশি একটি অ’বৈধ পি’স্তলও তার কাছে ছিল। আটকের সময় তার বাসা থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। বিদেশ যাওয়ার জন্য নিজের লাইসেন্সকৃত দু’টি অ’স্ত্র বাড্ডা থানায় জমাও দিয়েছিলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গোল্ডেন মনির দুবাইতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এজন্য তার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। শনিবার গ্রেপ্তার এড়াতে পারলেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতেন। এদিন বেলা ১১টার দিকে আমিরাত এয়ারলাইনসের (EK-585) ফ্লাইটে মনিরের দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।

এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বলেন, গোল্ডেন মনিরের অ’স্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

গোল্ডেন মনিরের ছেলে মোহাম্মদ রাফি হোসেন বলেন, বাবা প্রায়ই চিকিৎসার জন্য দুবাই যান। এবারও চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন, এজন্য তার ফ্লাইট কনফার্ম ছিল। এর আগেই র‌্যাব তাকে আটক করে ফেলে। তবে মনিরের শারীরিক সমস্যা বা চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিয়ে পারেননি রাফি হোসেন।

বাবার অভিযোগের বিষয়ে রাফি বলেন, আমার বাবা নি’র্দোষ। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বাবার নামে যেসব অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে সব ভিত্তিহীন। তিনি একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। আমরা আইনিভাবে সব মোকাবেলা করবো। সেখানেই প্রমাণ হবে বাবা অপরাধী কি-না।

গোল্ডেন মনিরকে আটকের পর র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে প্রাথমিক জেরা করা হবে। জেরায় কারো সম্পৃক্ততা পেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানায় র‌্যাব।

উল্লেখ্য, সংবাদ মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী পুরনো নথিপত্রে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে। গোল্ডেন মনির বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তারেক রহমান এবং তার বন্ধু মামুন ওরফে খাম্বা মামুনের সাথে মিলে চোরা কারবারের একটি চক্রের সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়াও বিএনপির দলীয় ফান্ডে তিনি প্রায়ই বড় অংকের অনুদান দেন।

শেয়ার করুন !
  • 154
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply