বাবুনগরী কার, জামায়াতের, বিএনপির নাকি সরকারের?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

হেফাজতের নতুন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। ক’ট্টরপন্থী এবং উ’গ্রবাদি হিসেবে তিনি পরিচিত। জামায়াত ঘরনার রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আছে, সেটা প্রমাণিত। খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গেও বাবুনগরী ঘনিষ্ঠ। বাবুনগরী প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১৩ সালের ৫ মে। হেফাজত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই এই কর্মসূচী ঘোষণার পরপরই ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জড়ো করা হয়। এই আন্দোলনকে সরকার বিরো’ধী আন্দোলনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে যারা উদ্যোক্তা ছিলেন তাদের মধ্যে বাবুনগরী, এটা স্পষ্ট হয় আল্লামা শফীর পুত্র আনাস মাদানীর একটি ফোনালাপ প্রকাশ হওয়ার পর।

২০১৩ সালের ৫ মে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঢাকায় ব্যাপক ভা’ঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তারা বায়তুল মোকাররমের দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়, বিপুল পরিমাণ কোরআন শরীফ এবং বহু ধর্মীয় গ্রন্থ সে সময় পুড়ে যায়। যা আড়াল করতে নালায় ফেলে দেয়া হয় সে সময় এবং পরবর্তীতে উদ্ধারও হয়। সেসময় বহু অনেক গাড়ি, ব্যাংকসহ বিভিন্ন অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

একাত্তরের ঘা’তক দালাল নি’র্মূল কমিটির একটি সভা চলাকালে অধ্যাপক শাহরিয়ার কবিরকে লা’ঞ্ছতি এবং আহত করা হয়, আক্রা’ন্ত হন অনেক সাধারণ মানুষও। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তাদের কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেন এবং ঢাকা থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। রাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে হেফাজতের কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায় এবং বাবুনগরীকে সে সময় গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুনগরীর নামে রাষ্ট্রদ্রো’হিতার মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

পরবর্তিতে আল্লামা শফির সঙ্গে সরকারের এক ধরনের সমঝোতা হয়। এর ফলে মামলাগুলোকে আস্তে আস্তে হিমাগারে পাঠানো হয়। আল্লামা শফীর সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষিতে বাবুনগরী হেফাজতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আল্লামা শফী এক পর্যায়ে বাবুনগরীকে অ’কার্যকর এবং নি’ষ্ক্রিয় করে ফেলেন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে আল্লামা শফি দলের তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেনি। আর তখনই হেফাজতে যারা রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করে বাবুনগরী হেফাজতের মধ্যে প্রভাব বলয় তৈরী করেন। আল্লামা শফি মা’রা যাওয়ার পর বাবুনগরীর আমির হওটা ছিল অবধারিত।

হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সারাদেশের নেটওয়ার্ক এবং কওমি মাদ্রাসাকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আল্লামা শফীর পরেই বাবুনগরীর অবস্থান ছিল। আল্লামা শফীর মৃ’ত্যুর পর এখন বাবুনগরী এই পকেটগুলোতে জনপ্রিয়। তাই বাবুনগরীকে আমির হতে বেগ পেতে হয়নি। যদিও আল্লামা শফীর পুত্র আনাস মাদানি এবং দলের অনেক সিনিয়র নেতাই বাবুনগরীর আমির হওয়ার বিরো’ধিতা করেছিলেন। কিন্তু জামায়াত ঘনিষ্ঠ হেফাজতের কিছু নেতা বাবুনগরীর পক্ষে রয়েছেন। তাই শেষ পর্যন্ত আল্লামা শফীপন্থীরা খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না। হেফাজতের ভা’ঙনের যে কথা বলা হচ্ছে, তা হলেও বাবুনগরী হেফাজতের মূল অংশে থাকবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

কিন্তু বাবুনগরীকে নিয়ে এক ধরনের অ’স্বস্তি আছে সবার মধ্যে। বাবুনগরী ক’ট্টরপন্থি এবং উ’গ্রবাদকে লালন করেন। ফলে তার আমির হওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি এবং ইসলামি দলগুলো। তাদের মতে, বাবুনগরীকে দিয়ে সরকারবিরো’ধী আন্দোলন উ’স্কে দেয়া যাবে। বাবুনগরীর সাথে বিএনপি-জামায়াতের ঘনিষ্ঠতাও পুরনো। অন্যদিকে প্রায় ৭ বছর বশে রাখা হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বাবুনগরীর সঙ্গে আওয়ামী লীগকে সমঝোতায় যেতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে। এজন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কাজ করা হচ্ছে।

আর এ কারণেই হঠাৎ আলোচনায় বাবুনগরী প্রসঙ্গ। তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে এক ধরনের টানাহেঁচড়া চলছে। শেষ পর্যন্ত বাবুনগরী কার পক্ষে যান সেটাই দেখার বিষয়। তবে আমির হওয়ার পর উ’গ্রবাদকে ধারণ করলেও বাবুনগরী এখন পর্যন্ত কোনো উ’স্কানিমূলক বক্তব্য দেননি। বরং তিনি কোন দিকে যাবেন তা নিয়ে দরদস্তুর চলছে। শেষ পর্যন্ত কে এই বাবুনগরীকে বশে রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply