অবশেষে সরকারের সাথে হেফাজতের সমঝোতা

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

শেষ পর্যন্ত হেফাজত সরকারের সঙ্গেই থাকলো। বিএনপি বা অন্য কোন দলের সংগে আপাতত জোটে যাচ্ছে না দলটি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরো’ধী অবস্থান থেকেও সরে এলো অ-রাজনৈতিক সংগঠনটি। তারা এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবে না বলে সরকারকেও আশ্বস্ত করেছে। এর ফলে ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যে জটিলতা তৈরী হয়েছিল তার অবসান হলো।

তবে শুধু হেফাজত নয়, ঐ ভাস্কর্য নির্মাণে যে মৌ’লবাদী সংগঠনগুলো আপ’ত্তি তুলেছিল সরকার তাদেরকেও বোঝাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের দু’জন প্রভাবশালী মন্ত্রী গত কয়েক দিনে হেফাজতের নব নিযুক্ত নেতৃবৃন্দের সংগে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌছেন। ঐ দুই মন্ত্রীর একজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। সূত্র মতে, হেফাজতের নবনিযুক্ত কমিটির সদস্যদের সাথে তারা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে আলোচনা করেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে ভাস্কর্য সম্পর্কে হেফাজতের নেতাদের পরিস্কার ধারণা দেয়া হয়। মূর্তি এবং ভাস্কর্যের পার্থক্য সম্পর্কেও তাদের বোঝানো হয়। সূত্র মতে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ব্যাপারে দুই মন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন। তারা এ-ও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ পিছু হটবে না। প্রয়োজনে সরকার কঠোর অবস্থানে যেতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দেন। দুই মন্ত্রী হেফাজতের জন্য বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসার জন্য সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী কী কী করেছেন তা আবার স্মরণ করিয়ে দেন।

এর প্রেক্ষিতে আজ দুপুরে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব এবং খেলাফতে মজলিশের মহাসচিব মামুনুল হক ফেসবুক লাইভে এসে তার দীর্ঘ বক্তব্যের এক পর্যায়ে জানান, তারা রাষ্ট্রের বিরো’ধীতা করতে চান না, সহিং’সতামূলক কর্মকান্ডেও জড়িত হতে চান না; সেই সাথে নিজেদেরকে সরকারের শুভাকাঙ্খী বলে দাবি করেন।

এছাড়া হেফাজতের নেতারাও স্বীকার করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই কওমিগোষ্ঠীসহ দেশের সাধারণ মুসলমানদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাও প্রকাশ করেন। এরপর তারা সরকারের ওই দুই মন্ত্রীর সাথে তাদের কিছু সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়, এগুলো প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন। অন্য ইসলামী দলগুলো যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরু’দ্ধে কথা বলছিলো, তাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলী ও প্রেসিডিয়ামের একাধিক সদস্য কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন, হেফাজত এবং অন্য দলগুলোর মধ্যে একটা ভুল ধারণা ছিলো। আমরা এটি পরিস্কার করতে সক্ষম হয়েছি। এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে আর কোন বাধা নেই। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 385
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply