‘আমি মনে-প্রাণে একজন ফিলিস্তিনি’- মাহমুদ আব্বাসকে বলেছিলেন ম্যারাডোনা

0

স্পোর্টস ডেস্ক:

মাত্র কয়েকদিন আগেই তার ব্রেন সার্জারি করা হয়েছিল। কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর ডাক্তাররা তাকে রিহ্যাব সেন্টারে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎে করেই আজ হার্ট অ্যাটাক হলো সাবেক এই ফুটবল গ্রেট এর। যেখান থেকে আর ফিরলেন না আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তকে শোক সায়রে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই ফুটবল মহানায়ক। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার আইনজীবী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার পরই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার মিডিয়াগুলোতে। এরপর সারাবিশ্বের মিডিয়ায়।

চিরকাল নিপী’ড়িত মানুষের পাশে এক বিপ্লবী হিসেবে সমর্থন করে গেছেন ম্যারাডোনা। ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন ছিল সব সময়। গত বিশ্বকাপের সময় রাশিয়ায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে ম্যারাডোনা নিজেকে একজন ‘ফিলিস্তিনি’ বলে জানান।

রাশিয়া-২০২০ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচটি দেখার জন্য রাশিয়ায় উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল লিজেন্ড দিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচটি দেখতে রাশিয়ায় ছিলেন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও। সেখানে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন ম্যারাডোনা ও প্রেসিডেন্ট আব্বাস। দুই জনের এই সাক্ষাতে ম্যারাডোনা আব্বাসকে বলেন, আমি মনে প্রাণে একজন ফিলিস্তিনি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মস্কো গেছেন প্রেসিডেন্ট আব্বাস। সেখানে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে দুই নেতা বৈঠকে মিলিত হন সে সময়।

ফুটবল জগতে কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত ম্যারাডোনা দীর্ঘ সময় থেকেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ফিলিস্তিন একদিন চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে জানান ম্যারাডোনা।

নিজের ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে ম্যারাডোনা সে সময় লিখেছেন, এই লোকটি ফিলিস্তিনে শান্তি চায়। জনাব আব্বাস, আপনার নিজের একটি পূর্ণাঙ্গ দেশ আছে। এর আগে ২০১৪ সালেও ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সঙ্গে যা করছে তা লজ্জার।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। ১৯৯০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। সেবার জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয় তাকে। এছাড়া ইউরোপিয়ান ফুটবল ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির অবি’সংবাদিত কিংবদন্তি ছিলেন তিনি।

মাত্র ২ সপ্তাহ আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। ব্রেন সার্জারি করা হলেও, ডাক্তাররা বলেছিলেন আশাতীত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও মা- দ’কাসক্তির কারণে তাকে বাড়িতে নয়, পাঠানো হয়েছিল বুয়েন্স আয়ার্সের একটি রিহ্যাব সেন্টারে। এরপর তাকে নেয়া হয় নিজের বাড়ি তিগ্রেতে। সেখানেই আজ হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চলে গেলেন এই কিংবদন্তি।

আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্স থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ম্যারাডোনা। এরপর ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলি ছিল তার সোনালি যুগের ক্লাব। খেলেছেন বার্সেলোনার জার্সিতেও। মূলত ১৯৮৬ বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে অবি’সংবাধিত কিংবদন্তিতে পরিণত হন তিনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে দুটি গোল করেছিলেন, সে দুটিই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে। প্রথমটি করেছিলেন হাত দিয়ে। যে কারণে এটাকে বলা হয় ‘দ্য হ্যান্ড অব গড’। অন্যটি করেছিলেন মাঝ মাঠ থেকে এককভাবে টেনে নিয়ে গিয়ে। সেই গোলটারই নাম হয়ে যায় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।

শেয়ার করুন !
  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply