গোল্ডেন মনিরের গডফাদার কে এই সচিব?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গোল্ডেন মনির, চোরা কারবারী রাজউকের মাফিয়া ডন। এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে তাকে জেরা করা হচ্ছে। গোল্ডেন মনির এখন পর্যন্ত ৬১৫ কোটি টাকার সম্পদের কথা স্বীকার করেছেন। গোল্ডেন মনিরের উত্থান নিয়ে গণমাধ্যমে নানা ঘটনা প্রবাহ উঠে এসেছে। লাগেজ ব্যবসায়ী থেকে স্বর্ণ চোরা কারবারী এবং পরে রাজউকের গডফাদার।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের হাত ধরে রাজউকের গডফাদার হয়ে উঠেছিলেন গোল্ডেন মনির। বিএনপি সরকার না থাকলেও গোল্ডেন মনিরের আধি’পত্য তাতে বিন্দুমাত্র কমেনি বরং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তিনি আস্তে আস্তে বিস্তৃত করেছেন তার নেটওয়ার্ক, রাজউককে রেখেছিলেন হাতের মুঠোয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ রাজউক অফিসে তিনি ভিআইপি মর্যাদা পেতেন। এছাড়া রাজউকের চেয়ারম্যানের কক্ষে তিনি যখন তখন ঢুকতে পারতেন। তার পরামর্শের দিকেই তাকিয়ে থাকতো রাজউকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জেরায় তিনি একজন সচিবের কথা বলেছেন। যার সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবার রাজউক পুনরুদ্ধার করেছেন।

ওই সচিব তাকে রাজউক অফিসে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছেন। ওই সচিবের কক্ষে তিনি নিয়মিত যেতেন বলেও গোয়েন্দা তথ্যে পাওয়া গেছে। সেই সচিব গোল্ডেন মনিরকে শুধু পৃষ্ঠপোষকতাই দেননি তিনি গোল্ডেন মনিরকে আধি’পত্য বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই সচিবের বদৌলতেই রাজউককে ব্যবহার করে গোল্ডেন মনিরের ব্যবসা আরও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই সচিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারনেই গোল্ডেন মনির আওয়ামী লীগ আমলেও রাজউকে দাপট দেখাতে সক্ষম হন। শুধু রাজউকই নয়, এর আগে গণপূর্তের মাফিয়া, মির্জা আব্বাসের ডানহাত খ্যাত যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে শামীমের সময়েও ওই সচিবের নাম সামনে এসেছিলো কিন্তু কেউ তার গায়ে আঁচড় পর্যন্ত দিতে পারেনি। কিন্তু এবার শেষ পর্যন্ত সেই সচিবের নাম সামনে আসবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

গোল্ডেন মনিরের এই উত্থানের পেছনে অনেকে একজন প্রতিমন্ত্রীর কথাও বলছেন, আবার এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরেরও নাম এসেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূল পৃষ্ঠপোষক আমলাদের কথা কারও মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে না।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, যখনই কোনো অপরাধী আটক হয়, তখন তার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো এমনভাবে সাজানো যে, এর সাথে আমলাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কখনওই দু’র্বৃত্তায়ন পরিপূর্ণ করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই দেখা যায় একজন দুর্নীতিবাজ আটক হলেই তার সাথে রাজনৈতিক নোতাদের সম্পৃক্ততা খোঁজা হলেও আমলাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আড়ালেই থেকে যায়।

ইতিপূর্বে রিজেন্ট শাহেদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জি কে শামীমের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এখন দেখা যাচ্ছে, বিভিন্নভাবে গোল্ডেন মনিরের গডফাদার হিসেবে যে সচিবের নাম আসছে, শেষ পর্যন্ত তিনি আইনের আওতায় আসবেন কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অপরাধীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাধর আমলারা সবসময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।

শেয়ার করুন !
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply