সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মা-ছেলে আবারও বিপরীতমুখি অবস্থানে!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত ২৪ অক্টোবর শেষ বার পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে মা ছেলের মাঝে কথাবার্তা বন্ধ। এমনকি তারেকের স্ত্রী জোবাইদা, যিনি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যর খোঁজখবর নিতেন, তিনিও কথা বলছে না খালেদা জিয়ার সাথে। খালেদা জিয়ার আদরের নাতনী জাইমার সঙ্গেও কথোপকথন বন্ধ রয়েছে। কথা বলছেন শুধুমাত্র প্রয়াত পুত্র কোকোর স্ত্রী সিঁথির সাথে।

কেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেকের কথা বন্ধ, এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানারকম গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর আগেও মা ছেলের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরো’ধ হয়েছিল, কথাবার্তা বন্ধ জোবায়দা বা জাইমার মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারেনি। তারেকের সঙ্গে খালেদা জিয়া দিনের পর দিন রাগ করে কথা বলেননি, কিন্তু পুত্রবধু জোবাইদা এবং নাতনি জাইমার সঙ্গে নিয়ামিত কথা বলে গেছেন।

২৫ মার্চ বিশেষ বিবেচনায় জেল থেকে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই জোবাইদা খালেদা জিয়ার নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। জোবাইদার নেতৃত্বেই একটি টিম নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করছিল। কিন্তু গত এক মাস ধরে ডা. জোবাইদা কোন খোঁজখবর নিচ্ছেন না তার শাশুড়ি খালেদা জিয়ার। কেন জোবাইদা এবং জাইমার সঙ্গে কথা বন্ধ হলো, তা নিয়ে দলের ভেতরে নানামুখী আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, মূলত খালেদা জিয়ার সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই এই বিরো’ধ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। খালেদা জিয়ার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এখন খালেদা জিয়া যেহেতু অসুস্থ, তিনি এই সম্পত্তি উত্তরাধিকারের দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। এ নিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সেখান থেকেই বিরো’ধের সূত্রপাত বলে মনে করছেন একাধিক বিএনপি নেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার এই সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারার ক্ষেত্রে কোকোর স্ত্রী এবং তার দুই পুত্রের ব্যাপারে বেশি পক্ষপাত দেখাচ্ছেন। এটি তারেক রহমান জোবাইদার পছন্দ নয়। আর এ কারণেই মা-ছেলের মাঝে দ্বৈরথ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তবে বিএনপির অন্য নেতারা বলছেন, এটি একেবারেই সত্য নয়। সম্পদ খালেদা জিয়া এখন কাউকে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিবেন বলে মনে করেন না তারা। বরং খালেদা জিয়ার সঙ্গে সিঁথির যে সম্পর্ক, সেটা তারেক রহমান এবং তার পরিবারের জন্য গাত্রদাহের কারণ হয়েছে।

কোকোর স্ত্রী সিঁথি খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে জেলে দেখা করেছিলেন, তার খোঁজ-খবর নিয়েছিলেন। দুটো ঈদে খালেদা জিয়ার কাছে এসেছিলেন সিঁথি। আর এ কারণেই খালেদা জিয়া এখন সিঁথির প্রতি বেশি মাত্রায় স্নেহেপ্রবণ। অনেক রাজনৈতিক বিষয়ে সিঁথি খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দেন এবং কথা বলেন বলেও জানা গেছে।

সিঁথি এখন অনেক রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন এমন কথা শোনা যায় বিএনপিতে কান পাতলেই। আর এ নিয়ে তারেক খালেদা জিয়ার কাছে অনুযোগ করেছেন সিঁথি যেন রাজনৈতিক ব্যাপারে নাক না গলায়। সেজন্য খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপও চেয়েছিলেন তারেক। কিন্তু খালেদা জিয়া সে বিষয়ে সাড়া দেননি। আর এ কারণেই তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাগ করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। তবে বিএনপির কেউ কেউ মনে করছেন, খালেদা জিয়া এবং তারেকের কথা বন্ধের প্রধান কারণ হলো বিএনপির নেতৃত্ব কর্মপন্থা এবং কার্যক্রম।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যেভাবে চলছে, তাতে খালেদা জিয়া সন্তুষ্ট নন। আর এ নিয়ে তিনি তারেকের সঙ্গে গত অক্টোবরের ২৪ তারিখে কিছু কথাবার্তা বলেছেন। ওই কথাবার্তার সূত্র ধরেই মা-ছেলের মধ্যে কিছু বিষয়ে দ্বিমত দেখা দেয় এবং তারপর থেকেই তাদের মধ্যে কথাবার্তা বন্ধ রয়েছে। এ কারণেই খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রাসহ বিদেশে চিকিৎসার পরিকল্পনা থেমে আছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 81
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply