মামুনুল চট্টগ্রামে আসেননি- নিশ্চিত করলেন ইউএনও

0

সময় এখন ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘোষণাসহ বিভিন্ন বিত’র্কিত বক্তব্যের জন্য আলোচিত হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক প্রতিরোধ করার আগেই বোরকা পরে চট্টগ্রামে এসে গেছেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী সেজে হাটহাজারীতে ঢুকেছেন, ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন- ইত্যাদি নানা গুজব ডালপালা মেলেছে দুপুরের পর থেকে।

তবে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল এখনও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় আসেননি, হাটহাহাজারী মাদ্রাসার তাফসিরুল মাহফিলের আয়োজক আল আমিন সংস্থার বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন।

তাফসিরুল মাহফিলে আজ সন্ধ্যায় মামুনুল হকের বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। এ জন্য তার ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় নির্ধারিত ছিলো।

এদিকে, সামাজিক যোগায়োগ মাধ্যমে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্ররা মামুনুল হক হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছেছেন বলে প্রচার চালাচ্ছেন, তবে এ সব তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, মামুনুল হকের চট্টগ্রাম আগমন ঠেকাতে গতকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগ।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে গণমাধ্যমকে জানান, মামুনুল হক এখনও হাটহাজারীতে আসেননি। আয়োজক সংস্থা, হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নেতারা এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা সদস্যরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, মামুনুল হকের চট্টগ্রাম আগমন ঠেকাতে জুমার নামাজের পর থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, নগরীর জিইসি, অক্সিজেন, হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সমাবেশ চলমান রেখেছে।

যদিও গতকাল রাত থেকে চট্টগ্রামের কয়েকটি পোর্টাল থেকে গুজব ছড়ানো হয়েছে ‘কেন্দ্রের নির্দেশে’ অবস্থান থেকে সরে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।

তবে সেসব তথ্য মিথ্যা এবং বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে বলে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে জানালেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। তিনি ফেসবুক পোস্ট থেকে লিখেছেন-

“সিটিজি প্রতিদিন জ’ঙ্গিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত। সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রা’ন্তি সৃষ্টি করছে, সকলে সজাগ থাকুন। এবং নির্দেশনা মোতাবেক স্ব স্ব অবস্থানে অ’নড় থাকবেন। যে কোনো মূল্যে ষড়’যন্ত্র প্র’তিহত করুন।”

রাত পৌনে ২টার দিকে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘোষণা প্রদানকারী মামুনুল হককে যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হবে— এমন ঘোষণা দিয়েছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ ছাড়াও যুবলীগের পক্ষ থেকে মামুনুল হককে প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী হাই স্কুল মাঠে একটি তাফসিরুল কোরান মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মামুনুল হকের। আকাশপথে চট্টগ্রাম এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে হাটহাজারী যাবেন— এমনটিও জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। প্রথমে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার ঘোষণা এলেও পরে অপর একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে কৌশলগত কারণে। তাফসিরুল কোরান মাহফিলটা মূলত কাভার হিসেবে ব্যবহৃ হচ্ছে।

একাত্তরে পাকিস্থানপন্থী হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত মাওলানা আজিজুল হকের পুত্র মামুনুল হকের ঔ’দ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যে কোনো মূল্যে তার চট্টগ্রামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ। সেই সাথে যুবলীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, মুক্তিযু’দ্ধের বিজয় মেলা কমিটি, মুক্তিযু’দ্ধ মঞ্চ চট্টগ্রামসহ অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও এই ডাকে একাত্মতা জানায়।

তবে চট্টগ্রামের ওই দৈনিক পত্রিকাটি কোনো এক বিশেষ উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতাদের সব কর্মসূচি স্থ’গিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মর্মে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের যাত্রাপথে কোনোরকম বাধা না দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে ‘কঠোরভাবে’।

তবে কে নির্দেশ দিয়েছে, কীভাবে নির্দেশ এলো, কার মাধ্যমে এলো, কোনো প্রেস রিলিজ বা নির্দেশনা আকারে এসেছে কি না- এমন কোনো তথ্যসূত্র ছিল না।

পত্রিকাটি ‘কাল্পনিক’ সূত্রে দাবি করেছে, সরকারের “উচ্চপর্যায়ের নির্দেশই” পালন করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদেরকে। সন্ধ্যায় নেতাদের ডেকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও মাহফিল ঠেকানোর যে কোনো চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে দাবী করে প্রতিবেদক। তবে এই পর্যায়ে পত্রিকাটি তথাকথিত ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ সূত্রের একটি মনগড়া দাবি জুড়ে দিয়েছে।

সেই ‘কাল্পনিক’ নেতা পত্রিকাটির প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেছেন, ‘আমরা ৩টি ইউনিট থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সব রকমের কর্মসূচি স্থ’গিত করতে বলা হয়েছে। আপাতত আমরা সেটাই করবো।’

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, যিনি সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা, তিনি এসব দাবিকে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা বলে নিশ্চিত করেছেন। এতেই পত্রিকাটির প্রতিবেদকের অ’সৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ধারণা করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ধৃ’ষ্টতা দেখানো উ’গ্র মতাদর্শী মামুনুল হকের চট্টগ্রাম আগমন ঠেকিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এক সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়, মামুনুল হক চট্টগ্রামের মাটি ব্যবহার করে কোথাও যেতে চাইলে তা যে কোনো মূল্যে ঠেকানো হবে।

ওই সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিত’র্ক সৃষ্টি করা এবং হুম’কি দেওয়া হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে চট্টগ্রামে সর্বাত্মক প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে এই ইস্যুতে চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র বীর মুক্তিযো’দ্ধা, চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল হুঁশিয়ার করে দিয়ে ভাস্কর্যবিরো’ধীদের ঘাড় মটকে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর চট্টগ্রামের মাটি ব্যবহার করে মামুনুল হকের হাটহাজারীতে সংবর্ধনা নিতে যাওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। তাই মামুনুল হককে প্রতিরোধ করতে চট্টগ্রামের সবর্স্তরের ছাত্র ও যুব ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্রেসক্লাব চত্বরে ওই সমাবেশের ডাক দেয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে নগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা ছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

শেয়ার করুন !
  • 4.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply