খালেদার মূখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকীর ১০টি বাড়ির সন্ধান!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের ইতিহাসে তাকে অন্যতম মেধাবী মনে করা হয়। একদা বামপন্থী সিএসপি অফিসার হয়ে কমিউনিজমকে বাতিল করেন। সিএসপি অফিসারদের মধ্যে যারা মুক্তিযু’দ্ধে অংশ নিয়েছেন, তার অন্যতম তিনি। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে তিনি ক্ষমতাবান আমলায় পরিণত হন। খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন হয়ে তিনি মূখ্য সচিব এবং মন্ত্রী পরিষদ সচিব হন।

এরপর পাড়ি দেন বিদেশে। সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কদিন আগেও অধ্যাপনা করতেন অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘুরে বেড়ান এদেশ থেকে ওদেশে। দেশে-বিদেশে কমপক্ষে ১০টি বাড়ির মালিক তিনি। মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাতেও বাড়ি আছে তার। ইনি হলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. কামাল সিদ্দিকী।

কামাল সিদ্দিকী বামপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন ছাত্রাবস্থায়। কমিউনিজমের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। কিন্তু ‘বুদ্ধিমান’ মেধাবী কামাল সিদ্দিকীর ‘সমাজতন্ত্রে’ মোহ ভা’ঙতে সময় লাগেনি। দ্রুতই তিনি কেতাদূরস্থ আমলায় পরিনত হন। শিক্ষিত এই আমলা একজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবেও নাম করেন। খালেদা জিয়ার সচিব এবং মূখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুই মেয়াদে।

এ সময় বাহ্যত সৎ এই আমলার বিত্ত বৈভবের স্ফীতি ঘটে। ওয়ান ইলেভেনে আটক তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ওরফে খাম্বা মামুন সেনা জেরায় জানান, বিদ্যুৎ এর বিভিন্ন প্রকল্পে ড. কামাল সিদ্দিকী প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

কামাল সিদ্দিকী প্রথমে সম্পদ বানান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে কুইন্সে তার একটি এপার্টমেন্ট আছে। এই এপার্টমেন্ট কেনেন ১৯৯৩ সালে। ২০০২ সালে নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনেন। ২০০৩ সালে কানাডার দিকে নজর দেন ড. কামাল সিদ্দিকী। এক ধাক্কায় ৩টি বাড়ি কিনে ফেলেন টরেন্টোতে। এ সময় কানাডায় হৈ চৈ পড়ে যায়।

কানাডার বিএনপি নেতারা ড. কামাল সিদ্দিকীর দুর্নীতির বিরু’দ্ধে খালেদা জিয়ার কাছে নালিশ করেও কোন ফল পায়নি। কানাডার ৩টি বাড়ি থাকলেও এগুলোতে থাকেন না কামাল সিদ্দিকী। দুটো বাড়ি ভাড়া দেয়া আছে। এগুলোতে থাকেন কানাডিয়ান নাগরিকরা। বছরে একবার কানাডায় আসেন। নীরবে নিভৃতে থাকেন।

কানাডার অধিকাংশ বাঙালীই জানেন না কামাল সিদ্দিকী কে। আর এ কারনেই বেগম পাড়ায় বাড়ি থাকার পরও আলোচিত নন কামাল সিদ্দিকী।

শেয়ার করুন !
  • 476
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply