আওয়ামী লীগে কোন দু’র্বৃত্তের স্থান নেই: বাহাউদ্দিন নাছিম

0

সময় এখন ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, আওয়ামী লীগে কোন দু’র্বৃত্তের স্থান নেই।

সাম্প্রতি আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় বাহাউদ্দিন নাছিম এ কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সিরাজগঞ্জ এবং নরসিংদীসহ বেশ কিছু স্থানে শুদ্ধি অভিযানের মুল লক্ষ্য হলো আওয়ামী লীগকে গতিশীল করা, আওয়ামী লীগকে আরো ব্যাপকভাবে তৃণমুলে গড়ে তোলা। যাতে কখনও কোন ধরনের বাধা বিপ’ত্তি না হয়। কোনভাবেই যেন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ন’ষ্ট না হয়। আওয়ামী লীগ যে জনমুখি রাজনৈতিক দল, এই দলটির জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানো, এই দলটির ওপর যাতে মানুষের বিশ্বাস আস্থা বজায় থাকে সেই জায়গাটি জোরদার করা। এটি যারা করতে পারবে না, তাদের দলের নেতেৃত্বে থাকার কোন প্রয়োজন বা সুয়োগ আছে বলে মনে করি না।

বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের ভেতরে গ্রুপিং প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। কখনও কখনও সহিং’স রূপ নিচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতা হিসেবে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন এবং এর সমাধানের জন্য কী করণীয়- এর উত্তরে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সহিং’সতা কোন রাজনৈতিক দলের কাম্য নয়। আওয়ামী লীগের মত রাজনৈতিক সংগঠনের মত দৈন্যতা থাকতে পারে, ভিন্ন মত থাকতে পারে, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। এসব আছে এবং আগামীতেও থাকবে। দলে নেতেৃত্বের প্রতিযোগীতা দলকে আরো সার্বজনীন করে, গতিশীল করে।

এই ধারণা আমরা সব সময় বিশ্বাস করি। সে ক্ষেত্রে সব জায়গায় যে সব কিছু সুন্দরভাবে হয় এটা আমরা আশা করি, কিন্তু অনেক জায়গায় হয় না। এরকম অবস্থায় আমরা দলের ঐক্য ধরে রাখা, দলের গঠনতন্ত্র আছে, সেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কোথাও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তাহলে আমরা নেত্রী, আমাদের আদর্শের প্রতীক, ঐক্যের প্রতীক দেশরত্ন শেখ হাসিনার পরামর্শ, নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এই দেশে তৃণমুল থেকে সর্বস্তরে আওয়ামী লীগের সংগঠন বিস্তৃত। সেই বিবেচনায় কোথাও না কোথাও সংঘা’ত হয়। সেটা একটু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যায়। সেগুলোকে আমরা কঠোর হস্তে দ’মন করি। সাজার ব্যবস্থা করে দলে শৃঙ্খলা-ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।

এইসব ঘটনা আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণেই ঘটে কি না, কারণ আওয়ামী লীগ যখন বিরো’ধী দলে থাকে তখন ঐক্য থাকে, কর্মীদের ত্যাগ করার মানসিকতা থাকে। কিন্তু এখন দলে হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী দলের মধ্যে বিস্তার ঘটে। এটা কি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার নেতিবাচক দিক বলে মনে করেন কি না?

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দেশ ও মানুষের কল্যানে এবং সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের মানুষের জন্য সরকার কাজ করবে এটা আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে অঙ্গীকার। সেই বিবেচনায় দীর্ঘদিন না, যতদিন সুযোগ আছে ততদিন আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থনের নিয়ে, রায় নিয়ে দেশ পরিচালনা করবে। দেশের জনগনের ভগ্য পরিবর্তনে দেশের উন্নয়নের অগ্রগতির জন্য কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক। এর জন্য দলের আদর্শ ন’ষ্ট হয়ে গেছে, বা দলের নেতা কর্মীরা উ’চ্ছৃঙ্খল হয়ে গেছে, নীতিহীন হয়েছে, আদশহীন হয়েছে এটা মনে করার কোন কারণ নাই। আওয়ামী লীগ নীতি আদর্শহীন হবার কোন সুযোগ নাই। অওায়ামী লীগ আদর্শের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এই জায়গাটায় আমরা কোন ধরণের ছাড় দেই না। এই জায়গাটাতেই আমরা দৃঢ়। জনগণের ওপর আস্থা রেখে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করছে। আওয়ামী লীগে আদর্শবান নীতিবান লোকের কোন অভাব নেই, সুতরাং মুষ্ঠিমেয় কোথাও কেউ যদি আদর্শহীন হয়ে যায়, তাকে আমরা সাংগঠনিকভাবে গঠনতন্ত্র মোতাবেক আমরা তাদের বিরু’দ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেই। তাদের বিরু’দ্ধে সাজামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের দল থেকে বের করে দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে অবিচল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতেৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে মুক্তিযু’দ্ধের চেতনায়, স্বাধীনতার চেতনায় অসম্প্রদা’য়িক ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে, সাম্প্রদা’য়িক সম্প্রীতি দৃঢ় করার যে লক্ষ্য, তা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সব সময় এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রস্তুত। আমরা নীতিতে আদর্শ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতেৃত্বে দেশের কল্যাণে কাজ করছি। সে লক্ষ্যে আদর্শহীনতা, নীতিহীনদের কোন জায়গা আওয়ামী লীগে নাই। দলের নেতাকমীরা স্বার্থান্বেষী কাজ করুক এটা আওয়ামী লীগের নীতির বিরো’ধী। জননেত্রী শেখ হাসিনাও এটা চান না, তিনি দলের নেতা-কর্মীদের কাছে এটা প্রত্যাশা করেন না।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, জনগণের জন্য, এ দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাবো। তাই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগে এসব হচ্ছে কি না এটা ঠিক নয়। বরং এ কথার মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনগণ থেকে বিচ্ছি’ন্ন করা অথবা জনগণকে সেবা থেকে ব’ঞ্চিত করার একটা গভীর ষড়’যন্ত্র বলে আমি মনে করি। আওয়ামী লীগ সব সময় ভালো সমালোচনা এবং ভালো কথাকে গ্রহণ করে। কিন্তু যারা বাংলাদেশকে সাম্প্রদা’য়িক রাষ্ট্র বানাতে চায়, অথবা জ’ঙ্গী রাষ্ট্রের মত বানিয়ে আফগানিস্তান, পাকিস্থান অথবা সুদান এবং সিরিয়ার মত করতে চায় তাদের সে আশা পূরণ হবে না। আমরা বাংলাদেশকে সেখানে নিতে চাই না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষও এটা চায় না। এই বিবেচনায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতেৃত্বেই একটি সুন্দর পরিবেশ নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনাকালিন সময়ে সারা বিশ্বে একটা মহামা’রী বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। সেখানেও বাংলাদেশে দক্ষতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতেৃত্বে আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রগতির জায়গাটাও একটা ঈর্ষনীয় পর্যায়ে। বিএনপির মত একটি অরাজনৈতিক রাজনৈতিক দল বলেছিল, দেশে হাজার হাজার লোক না খেয়ে মা’রা যাবে। হাজার হাজার লোক মা’রা যাবে, রাস্তায় ডেডবডি হয়ে পড়ে থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতো বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। আমরা ইতিবাচক ধারার জায়গায় থাকতে চাই, এই ধারা অব্যহত রাখতে চাই। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 399
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply