যেসব ইস্যুতে একত্রিত হয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে নতুন করে ধ’র্মান্ধ মৌ’লবাদি এবং স্বাধীনতাবিরো’ধীরা জোটবদ্ধ হচ্ছে। তারা বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে, আ’স্ফালন করছে, কর্মসুচী দিচ্ছে, সংগঠিত হচ্ছে। সরকারের জন্য নতুন মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে এই স্বাধীনতাবিরো’ধী অপ’শক্তি। বিশেষ করে হেফাজতের সম্মেলনের পর স্বাধীনতাবিরো’ধী শক্তি নতুন করে বিভিন্ন কর্মসুচি নিয়ে এগোতে চাচ্ছে।

বাংলাদেশে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। টানা তিন মেয়াদে এই সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। এই সময় যু’দ্ধাপরাধীদের বিচারসহ নানা রকম গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং একটি অ’সম্প্রদা’য়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ নির্মাণের চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আস্তে আস্তে স্বাধীনতাবিরো’ধী শক্তিগুলো জ’ঙ্গীবাদী গোষ্ঠির সঙ্গে আঁতাত করে নতুন করে জানান দেয়ার চেষ্টা করছে নিজেদেরকে। যেসব ইস্যু নিয়ে তারা আবার নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হতে চাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে:-

১। ভাস্কর্য: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরো’ধীতা করছে স্বাধীনতাবিরো’ধী, মৌ’লবাদি অপ’শক্তি। তারা এই ভাস্কর্যকে মূর্তি নামে আখ্যায়িত করে এটি অপ’সারণের দাবী জানাচ্ছে। এ নিয়ে ধ’র্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছে এবং বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কর্মসুচীও ঘোষণা করছে। সাম্প্রতিক সময় এই ইস্যুতে তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া করছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হেফাজতের নতুন মহাসচিব কাসেমীর একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। এই বিষয়টিকে তিনি উ’স্কে দিচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র নিশ্চিত করেছে।

২। ব্লাসফেমি আইন: দীর্ঘদিন ধরে ধ’র্মান্ধ মৌ’লবাদি শক্তিগুলো বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়া আইন জারি করার দাবী করে আসছিল। এই শরিয়া আইনের মধ্যে অন্যতম ছিল ব্লাসফেমি আইন। অর্থাৎ যারা ধর্ম নিয়ে সংশয় বা বিরো’ধীতা (তাদের পার্সপেক্টিভে) করবে তাদের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দেয়ার যে বিধান সেটি তারা কার্যকর করতে চাচ্ছে। সম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করা ইসলামি আন্দোলন সংগঠনটি ইসলামি শরিয়া আইন বাস্তবায়নের কথাও বলছে। আর এটি তাদের ঐক্যের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মনে করছে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো।

৩। ফ্রান্স ইস্যু: যদিও ফ্রান্স ইস্যুর ইতিমধ্যে ইতি ঘটেছে। তারপরেও এটিকে নতুন করে চাঙ্গা করতে চাইছে কিছু কিছু ইসলামি সংগঠনগুলো। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের কুটনৈতিক সম্পর্ক ছি’ন্ন করার দাবী নিয়ে মৃদু হলেও কিছু কিছু কর্মসুচী পালন করছে। এক্ষেত্রে তারা প্রবাসীদেরকে উ’স্কে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল প্রথমদিকে। কিন্তু সে সময় প্রবাসীরা নিজেরাই চাপের মুখে পড়ে যায়, তারা যেসব দেশে থাকে, সেসব দেশের সাথে ফ্রান্সের সুসম্পর্ক থাকায় বিদেশে বসে আন্দোলনের ইন্ধন যোগানোর সুযোগ মেলেনি, উল্টো সিঙ্গাপুর থেকে ১৫ প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

৪। ইসরায়েল ইস্যু: সামনে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েল ইস্যু। ইতিমধ্যে পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ইসরায়েলকে সমর্থন দিতে চাপ রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক মেরুকরণ গঠতে যাচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েল ইস্যুটি বাংলাদেশের মৌ’লবাদিদের জন্য হটকেক বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ক ইসরায়েল ইস্যুতে একেবারে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

৫। পাঠ্যপুস্তক: হেফাজত গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্ককের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। পাঠ্যপুস্তকে যে অ’সম্প্রদা’য়িক চেতনা এবং সাম্প্রদা’য়িক সম্প্রীতির ইস্যুগুলো আছে, সেগুলোকে বাদ দেয়ার একটি পরিকল্পিত নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছে হেফাজত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারও তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। এখন পাঠ্যপুস্তকগুলোকে আরো মৌ’লবাদী কায়দায় ঢেলে সাজানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছে এই মৌ’লবাদি গোষ্ঠী।

আর এসব ইস্যু নিয়েই আবার নতুন করে আন্দোলন এবং সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে স্বাধীনতাবিরো’ধী শক্তিগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে আল্লামা শফীর নেতেৃত্বে হেফাজতের কোন রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। এখন নতুন নেতেৃত্বের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য রয়েছে। তারা সরকারকে ইসলামের নামে চাপে ফেলার অপ’কৌশল নিয়ে এগোতে চায়। আর এজন্যই তারা ইস্যুগুলোকে নিয়ে মাঠে নামছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 98
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply