গণপূর্তের দুর্নীতিতে বিএনপির লোকদেরও আশ্রয়দাতা আওয়ামী লীগের এক নেতা!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গোল্ডেন মনির ও জি কে শামীমের অপ’কর্মের পর একে একে বের হয়ে আসছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর নানান কেলে’ঙ্কারির খবর। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কার প্রশ্রয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে কেলে’ঙ্কারির আঁতুড় ঘরে পরিণত করেছেন রাঘব বোয়ালরা।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তের কেলে’ঙ্কারির খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিএনপির গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের ডানহাত খ্যাত যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীমকে (জি কে শামীম) আটকের পর। আটকের পরই জানা যায়, জি কে শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ আদায় করতেন। একইভাবে টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দনীয় প্রতিষ্ঠানকেও কাজ পেতে সাহায্য করতেন যুবদল নেতা থেকে যুবলীগ নেতা বনে যাওয়া শামীম। তাকে আটকের পর এরই মধ্যে সরকারের একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ আটকে গেছে।

জি কে শামীমের পর আলোচনায় আসে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আরেক কেলে’ঙ্কারির খবর। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূর্নীতির খবর। এই প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজারমূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

এই কান্ডে আটক করা হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সাবেক ছাত্রদল ক্যাডার মাসুদুল আলমসহ ১৩ জনকে। বালিশ কেলে’ঙ্কারির মূলহোতা হিসেবে আটক হন বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ঠিকাদার শাহাদাত।

সর্বশেষ বের হয় গোল্ডেন মনিরের কীর্তিকলাপ। শোনা যায়, শুধু মন্ত্রণালয়ই নয়, পূর্ত ভবন ও রাজউকেও ছিল তার অনেক ক্ষমতা। তার প্রতিপত্তি দেখে মুখে টুঁ শব্দ করার সাহস ছিল না এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের। মি. টেন পার্সেন্ট খ্যাত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ওরফে ক্যাসিনো বাবর, তারেকের বন্ধু মামুন ওরফে খাম্বা মামুনসহ গোল্ডেন মনির- একই চোরা কারবারের সিন্ডিকেটের সদস্য। সম্প্রতি ১১টি বাস পোড়ানোর ঘটনাসহ বিভিন্ন না’শকতায় অর্থায়নে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় গোল্ডেন মনিরের। দেশছেড়ে পালানোর আগ মুহূর্তে গ্রেপ্তার হন তিনি।

এসব কেলে’ঙ্কারি নিয়ে গোয়েন্দারা খবরাখবর নিতে শুরু করলে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর খবর। জানা যায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রীর সাথে দহরম-রহরম সম্পর্ক ছিলো এই সকল ব্যক্তিদের। অর্থাৎ, মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি আওয়ামী লীগ পরস্পর প্রতিপক্ষ হলেও দুর্নীতি-অপ’কর্মে তারা একসাথেই কাজ করছেন।

গোল্ডেন মনিরসহ জি কে শামীমও নিয়মিত ওই মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক মন্ত্রীর কক্ষে যাতায়াত করতেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কক্ষে হরহামেশাই ঢুকে যেতেন। সাবেক ঐ মন্ত্রীর সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় তার বিরু’দ্ধে তেমন কোন কথাই বলার সাহস পেতেন না কেউ। শুধু সম্পর্কের জেরেই মন্ত্রী সরাসরি এদেরকে কাজ দিতে নির্দেশনা দিতেন। যে কারণে কোন রকম প্রশ্ন ছাড়াই কাজ এদেরকে দিয়ে দিতে বাধ্য হতেন কর্মকর্তারা। এই কাজের বিনিময়ে ঐ মন্ত্রী বিপুল পরিমাণ অর্থও পেতেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পারেন।

সূত্রমতে, এরই মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দারা মিলিতভাবে এই সকল রাঘব বোয়ালদের উত্থান ও তাদের উত্থানের পেছনের ব্যক্তিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। প্রতিবেদনটি খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করা হবে। এবং সরকারের প্রধানের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঐ আওয়ামী লীগ নেতার বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 72
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply