ভাস্কর্য ইস্যুতে পিছু হটছে হেফাজতে ইসলাম

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ দেশের সকল ভাস্কর্য ভে’ঙে ফেলা বিত’র্কে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অনড় অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ভাস্কর্য ইস্যুতে আওয়ামী লীগের কঠোর অবস্থানের কারণে নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

প্রায় ২ মাস ধরে ঢাকার ধোলাইপাড় চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করার বিরো’ধিতা করে আসছিল অনেকগুলো ইসলামপন্থী দল, তবে এই ইস্যুতে ব্যাপক বিত’র্ক শুরু হয় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ন মহাসচিব মামুনুল হকের মন্তব্যের পর। তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

মামুনুলের এই বক্তব্যের পর চট্টগ্রামে তাকে প্রতিহতের ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অবস্থানের পর হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী প্রথমবারের মত কড়া ভাষায় নিজের ভাস্কর্য-বিরো’ধী অবস্থান পরিস্কার করেন।

২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর তার বক্তব্যে বলেন, যে কোনো ভাস্কর্য তৈরি করা হলে তা টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে ফেলা হবে। এমনকি এই কাজ করার বিনিময়ে জেলে যেতেও প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেন তিনি।

বাবুনগরীর মন্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে আওয়ামী লীগ। প্রাথমিকভাবে নীরব থাকলেও বাবুনগরীর ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা কড়া প্রতিবাদ জানান।

ভাস্কর্য স্থাপনের পক্ষে মাঠে নামে আওয়ামী লীগের সকল ইউনিট ও অঙ্গ সংগঠন। একই সাথে ভাস্কর্যের পক্ষে কর্মসূচি দেওয়া শুরু করে পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ। রাজনৈতিকভাবে হেফাজতকে মোকাবেলার পাশাপাশি হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরু’দ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানায় দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগের এমন অবস্থানের পর মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে ও বিএনপি জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা মাফিক সাড়া না পাওয়ায় পিছু হটতে বাধ্য হয় হেফাজতে ইসলাম। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, সরকারের সাথে ল’ড়াইয়ে যাওয়াটা নিজেদের জন্য ক্ষ’তিকর হবে। তাছাড়া সরকারের সাথে সমঝোতা করলে বরং সামনের দিনে হেফাজতের জন্য ভালো হবে।

হেফাজতের এমন নমনীয় অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাস্কর্য বিত’র্কের মূল সূচনাকারী মামুনুল হক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে কিছু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে মাহফিল করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারদলীয় কিছু সংগঠন আমার বিরু’দ্ধে আন্দোলন করছে। সেই সাথে বিভিন্ন সংবাদ ও যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে বিভ্রা’ন্তিকর তথ্য প্রচার হচ্ছে। সুকৌশলে একটি মহল ভাস্কর্য নির্মাণের এই বিরো’ধিতাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরো’ধিতা বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন।

এ সময় একাত্তরে পাকিস্থানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়া আল্লামা আজিজুল হকের পুত্র মামুনুনুল হক বলেন, আমি আশা করব অন’ভিপ্রেত সব অপ’তৎপরতা বন্ধ হবে। একই সঙ্গে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক ও সৈয়দ ফজলুল করিম পীর সাহেব চর্মনাইয়ের নামে কটূ’ক্তির ব্যাপারে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

শেয়ার করুন !
  • 272
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply