উইঘুর মুসলানদেরকে পর্ক খাওয়াচ্ছে চীন!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীনের জিংজিয়ান অঞ্চলের উইঘুর মুসলানদের ওপর দেশটির সরকার কর্তৃক নির্যা’তনের খবর নতুন নয়। বিভিন্ন সময় এই জাতিগোষ্ঠীর ওপর নির্যা’তনের তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে।

এবার প্রকাশ্যে এল আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেটি হচ্ছে- উইঘুর মুসলানদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে পর্ক (শু’কর) এর মাংস খাওয়াচ্ছে চীন। খবর আল জাজিরার।

জানা গেছে, উইঘুর মুসলিমদের চীনের ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে বিশেষ শিবিরে নেওয়া হয়। ধর্মীয় উ’গ্রতা দূর করতে উইঘুরদের পর্ক খেতে দেওয়া হয়। তাছাড়া এটি সরবরাহ করতে খামারও স্থাপন করা হয়।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিংজিয়ান অঞ্চলের ‘পুনঃশিক্ষা কেন্দ্র’ থেকে ২ বছর আগে সায়রাগুল সাউতবে মুক্তি পান। কিন্তু ক্যাম্পে থাকাকালে সহ্য করা অপ’মানবোধ তিনি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

সায়রাগুল সাউতবে একজন পেশাদার চিকিৎসক ও শিক্ষক। বর্তমানে তিনি সুইডেনে বসবাস করেন। সম্প্রতি তার একটি বই প্রকাশিত হয়। তাতে সাউতববে ক্যাম্পে নিজের চোখে দেখা নিপী’ড়ন, যৌ- নির্যা’তন ও সহিং’সতার বর্ণনা দেন।

কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে সাউতবে উইঘুর ও অন্য গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ঘটা অ=মানবিক আচরণ নিয়ে আলোকপাত করেন। এতে তিনি পর্ক খাওয়া সম্পর্কেও বর্ণনা করেন, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষে’ধ করা হয়েছে।

সাউতবে বলেন, প্রতি শুক্রবার পর্ক খেতে আমাদের বাধ্য করা হত। তারা ইচ্ছাকৃত এমন একটি দিন নির্বাচন করে যেদিনটি মুসলিমদের জন্য পবিত্র দিন বলে স্বীকৃত। আর তা গ্রহণ না করলে আপনাকে কঠিন সাজার মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি আরও জানান, মূলত এমন নিয়ম মুসলিমদের মধ্যে অপ’মান ও লজ্জা তৈরির জন্য করা হয়েছিল। তাই খাবার গ্রহণ কালের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সাউতবে বলেন, আমার মনে হত আমি অন্য কেউ। আমার চারপাশে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। সত্যিই তা মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল।

সাউতবে ও অন্যদের সাক্ষ্য থেকে বোঝা যায়, মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসকে দূর করতে চীন কঠোরভাবে ব্যাপক নজরদারির ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৭ সাল থেকে এসব প্রতিরোধ করতে একটি বিশেষ ক্যাম্প খোলা হয়।

জার্মান নৃতত্ত্ববিদ ও উইঘুর গবেষক অ্যাড্রিয়ান জিনজ জানান, বিভিন্ন তথ্য থেকে বোঝা যায়, কৃষি উন্নয়নও ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির একটি অংশ। বিভিন্ন খবর থেকে আরও বোঝা যায়, উইঘুর অঞ্চলে পর্ক চাষাবাদ প্রসার করতে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়।

২০১৯ সালের নভেম্বর জিংজিয়ানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শোহরাত জাকির জানান, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে পর্ক উৎপাদনের একটি শহরে পরিণত করা হবে। তবে উইঘুররা জানায়, এটি তাদের জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

গত মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের বরাত দিয়ে কাশগরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি নতুন খামারের কথা বলেন জিনজ। এ খামার থেকে প্রতি বছর ৪০ হাজার পর্ক উৎপাদনের আশা করা হয়।

সিনা ওয়েবসাইটের খবর অনুসারে কাশগরের কনক্সাহার কাউন্টির একটি শিল্প পার্কে ২৫ হাজার স্কয়ার মিটারের স্থানে প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করা হবে আশা করা হচ্ছে।

গত ২৩ এপ্রিল রমজানের প্রথম দিন পর্ক খামার স্থাপনের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। তাতে বলা হয়, পর্ক খামার স্থাপন রপ্তানির উদ্দেশ্যে নয়। বরং তা কাশগরে সরবরাহ নিশ্চিত করতে করা হচ্ছে।

জিংজিয়ান ও আশাপাশের এলাকার ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী উইঘুর মুসলিম। জিংজিয়ানের জনসাধারণকে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে সরিয়ে আনার অংশ হিসেবে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষ নীতির অংশ হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির অনুগত হতে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব শিক্ষা দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন !
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply