ভাস্কর্য নিয়ে বাংলাদেশি আলেমদের ফতোয়া যে কারণে ইসলামসম্মত নয়

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

আমাদের হুজুররা ভাস্কর্য হা’রাম বলে যে ফতোয়া দিয়েছেন তা প্রমাণ করে যে ওনারা ইসলামী জ্ঞানে বিশ্ব থেকে অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে আছেন।

আমরা এখন যেভাবে মূর্তি ও ভাস্কর্যের পার্থক্য নিয়ে আলেমদের বিরোধিতা করছি। ঠিক একইভাবে তালেবানদেরকে idol ও statue এর পার্থক্য বোঝানোর জন্য ২০০১ সালে বিশ্বের মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাদের শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিয়ে কনফারেন্স করেছিলেন – Doha Conference of Ulama on Islam and Cultural Heritage. ওই কনফারেন্সেও সোলায়মান (আ.) এর ভাস্কর্য তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এই কনফারেন্সের আয়োজক ছিল আরব লীগ, ওআইসি ও ইউনেস্কো। সেখানে বিশ্বের সব দেশের আলেমরা ছিলেন কিন্তু আমাদের দেশ থেকে কেউ ছিলেন না; কারণ তারা জানতেন আমরা তালেবানদের খালাতো ভাই।

দোহা কনফারেন্সে মিশরের ড. আবদুল মুনীম বলেন, রাসুল (সা.) প্রথমদিকে মূর্তির বিরু’দ্ধে ছিলেন কারণ, তখন প্যাগান প্রভাব ছিল, শিরকের চিন্তা ছিল। ইসলাম যখন পরিপূর্ণতা লাভ করবে তখন আর সেই চিন্তা থাকবে না। এ কারণে খোলাফায়ে রাশেদীন এর সময় থেকে বিভিন্ন এলাকা জয় করলেও মূর্তি অপ’সারণ করা হয়নি।

দোহা ঘোষণার একটি প্যারা উল্লেখ করছি যা বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

The first concerns the confusion between idols and statues: Every statue was regarded as an idol and every idol as an error. The fact of the matter is that some statues are regarded as idols and some are not.

The former are the ones that are worshiped to the exclusion of God and these are absolutely forbidden to Muslims. As for statues that are not worshiped, to describe them as idols involves an arbitrariness, which the rational mind should be far above.

In this respect, the Quran 17 refers to the graces that God bestowed on His Prophet Solomon, for whom statues of glass, copper and marble depicting living beings were made. In this context, no longer associated with worship, statues are considered to
be God-given graces for which He should receive thanks.

আমাকে যেসব প্রশ্ন শুনতে হয় তা হচ্ছে, আমি মাদ্রাসায় পড়েছি কি না, আমার দ্বীনি যোগ্যতা কতটা- ইত্যাদি। আমাদের দেশের আলেমরা এমন কি সৌদি আরবে ১৬/১৭ বছর থেকে যারা পিএইচডি করেছেন তারাও বলেন, রাসুল (সা.) পুতুল নিয়ে আপ’ত্তি করেননি, কারণ আয়েশা (রা.) তখন (রাসুলের ই’ন্তেকালের ২ বছর আগে) শিশু ছিলেন।

উক্ত হাদিসে বলা ছিল- “তাবুকের ময়দান থেকে ফেরার সময়”। ‘তাবুক’ যে রাসুল (সা.) এর শেষ যু’দ্ধ– এটা জানার জন্য কি আমাকে মুফতি হতে হবে?

দোহা ঘোষণার বিষয়টি দেওবন্দি আলেমরা না জানলেও সৌদি কেন্দ্রিক আলেমদের জানার কথা। তারা জানেন না, কারণ তারা সম্ভবত এখনো পুরোনো ফতোয়া নিয়ে আছেন। সৌদি আলেমরা যখন জামায়াত শিবিরের বিরু’দ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন, তখন আমাদের দেশের সৌদিপন্থিরা জামাতকে আপন ভেবে ভোট দিতেন।

২০০৪/০৫ সাল থেকে তারা সেই ফতোয়া বুঝতে শুরু করেন। ভাস্কর্য, শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের আলেমরা বুঝবেন আরো ২০ বছর পরে।

লেখক: আবদুল্লাহ হারুন জুয়েল
পরিচিতি: কলামিস্ট, সাবেক ছাত্রনেতা।

শেয়ার করুন !
  • 1.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply