‘সব ব্যাপারে মাথা গরম করা যাবে না, নেত্রী বিষয়টা দেখছেন’

0

সময় এখন ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম প্রয়াণ দিবসে শনিবার তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারে আছি। সব ব্যাপারে মাথা গরম করলে চলবে না। বিষয়টি হ্যান্ডল করছেন প্রধানমন্ত্রী। যেভাবে তিনি করোনা মোকাবেলা করছেন, সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তিনি এখানে এসেছেন। কাজেই তিনি জানেন কোন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক মুজিববর্ষে ঢাকার ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার পর থেকেই বিত’র্কের সূত্রপাত। তারপর হেফাজতের অন্য নেতারাও সরব হয়েছেন।

হেফাজত নেতাদের এই অবস্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা যেমন কড়া ভাষায় কথা বলছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাস্কর্যবিরোধীদের রুখে দাঁড়ানোর এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে হুম’কি দেওয়ায় হেফাজত আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কোনো সংঘা’তে যাব না। আমরা যুক্তি-তর্ক দিয়ে বলব মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। আজকে যারা ভাস্কর্যের বিরু’দ্ধে কথা বলে তারা কি জানে না সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য আছে? সেখানে ভাস্কর্য ইসলামবিরোধী নয়, বাংলাদেশে কেন এটা অ’যৌক্তিক?

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রয়াণ দিবসে দোয়েল চত্বরে জাতীয় তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, নির্বাহী সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি আমাদের জাতীয় নেতা, গণতন্ত্রের মানসপুত্র, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু। পাকিস্থানি ঔপনেবিশেক আমলে গণতন্ত্রের জন্য তিনি বারবার ল’ড়েছেন, নির্যা’তিত হয়েছেন, দেশ ত্যাগ পর্যন্ত করেছেন। তিনি বারবার বলতেন গণতন্ত্রই আমার জীবনের মূল মন্ত্র। শাসনতন্ত্রের প্রশ্নে জনগণের রায়ই শেষ কথা, তিনি সেটা বলতেন।

তিনি বলেন, এইদিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। গণতন্ত্র একটি বিকাশমান ধারা। দেশে একটি মহল আছে যারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আচরণে, কর্মকাণ্ডে কখনও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। সাম্প্রদা’য়িক অপ’শক্তি আছে, এরা গণতন্ত্রের বিকাশ চায় না।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউই করে নাই। যাদের নিজেদের ঘরে গণতন্ত্র নেই তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে এটা আশা করা যায় না, বললেন সরকারদলীয় এই নেতা।

শেয়ার করুন !
  • 232
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply