সাংবাদিককে হুমকি প্রদান: ড. কামালের বিরুদ্ধে জিডি (ভিডিও)

0

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা:

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে অস্বীকারকারী এবং মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ধ্বংসযজ্ঞ চালানোসহ যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করব না- ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতী ইসলামীকে পাশে নিয়েই নির্বাচন করছে ড. কামালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এই বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই। ধনের শীষ নিয়ে কেন জামায়াত নির্বাচন করছে এবং শেষ পর্যন্ত ড. কামালের এ বিষয়ে চুপ থাকার কারনই বা কী!

এসব নিয়ে প্রশ্ন করায় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে চূড়ান্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পাশাপাশি ‘দেখে নেয়ার’ হুমকিও দেন ড. কামাল হোসেন। যার প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

শুক্রবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ও দৈনিক বাংলাদেশ সময় এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এই অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শুক্রবার সকালে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কামাল হোসেন। এরপর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধের বেদির সামনে ড. কামাল হোসেনকে, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা? এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াত প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি ডিজিটাল ডিভাইসে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারকালীন আমার সহকর্মী সাংবাদিকদের ভৎর্সনা করেন এবং অসম্মানের সাথে উল্টো জিজ্ঞাসা করেন, ‘কত টাকা পেয়েছ? কাদের টাকায় এসব বেহুদা প্রশ্ন করছ? তোমাদের নাম কী? দেখে নেব। কোন টিভি/পত্রিকায় কাজ কর? চিনে রাখব।’- এই মর্মে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। যা বাংলাদেশের কোটি দর্শক দেখেছেন এবং তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবার পাশাপাশি অবর্ণনীয় অসম্মানিত হয়েছে।

ওই অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে গভীর ভীতির সঞ্চার হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের এ ধরনের হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশে সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী এবং ভয়াবহ হুমকিও বটে। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং বাংলাদেশ পেনাল কোড আইনের আলোকে ফৌজদারি অপরাধ।

বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় ওই অভিযোগে।

অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেছেন, অভিযোগটির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা তার অভিযোগটি নিয়ে একটি জিডি করে ডিএমপি অর্ন্তভুক্ত দারুস সালাম থানায় পাঠিয়েছি। তারা পরবর্তী কার্যক্রম পরিচলনা করবেন।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের নেতৃবৃন্দের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের যুদ্ধাপরাধের কীর্তি ঢেকে দিতে ঐক্যফ্রন্ট মাঠে নেমেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। নির্বাচনের পূর্বে টিভি চ্যানেলের টকশোগুলোতে দেখা যায় সাবেক প্রগতিশীল আন্দোলনে সম্পৃক্ত আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, ড. কামাল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এখন জামায়াতের নির্বাচন প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন না। তারা ইনিয়ে বিনিয়ে এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান, কালক্ষেপণ করেন, ভিন্ন প্রসঙ্গে সরে যান। এমনটি দেখা গেছে সরাসরি প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোতে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে সব ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানান। যা প্রয়াত বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ এর সেই অমর উক্তিটি মনে করিয়ে দেয়- ‘একবার রাজাকার মানে চিরকাল রাজাকার, কিন্তু একবার মুক্তিযোদ্ধা মানেই চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা নয়।’

দৈনিক আমাদের সময় এর সৌজন্যে:

শেয়ার করুন !
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply