জামায়াতের কল্যাণে নিয়োজিত পার্টির প্রধান সৈয়দ ইবরাহিম

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত ১৬ জানুয়ারি শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দেয়া মাহফিলের আড়ালে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধানমন্ডির একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে আওয়ামী বিরোধি প্রায় ২০০ রাজনীতিবীদ, বুদ্ধিজীবী প্রাক্তন সামরিক এবং বেসামরিক আমলাদের এই সম্মেলন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিমের আহ্বানে এই সুধী সমাবেশ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হলেও এর মূল উদ্যোক্তা ছিলো জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত ডাকলে অনেকেই যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না, এজন্য কল্যাণ পাটির নেতা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিমকে ভাড়া করে জামায়াত। হোটেলে ভাড়া, খাবার খরচ ইত্যাদি সবই দেওয়া হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে।

জামায়াতের অর্থায়নে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ইবরাহিম আয়োজিত, এই অনুষ্ঠানে ২৫ রাজনৈতিক দলের নেতা, সাবেক সচিবসহ ২০ জন আমলা, ৫০ জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আইনজীবী সহ প্রায় ২০০ জন যোগদেন।

মজার ব্যাপার হলো, বিএনপি মহাসচিব বৈঠকে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, মাঝপথে তাকে জানানো হয়, এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করেছে জামায়াত। এ তথ্য জানার পর সৈয়দ ইবরাহিমের বৈঠকে আর যাননি মির্জা ফখরুল।

কারণ, তিনি ক’দিন আগেই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। যদিও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তালিকাভুক্ত রাজাকার রুহুল আমিনের পুত্র মির্জা ফখরুলের মুক্তিযোদ্ধা দাবির বিপরীতে। এ মুহূর্তে জামায়াতের সাথে তাকে দেখা গেলে সেটা নিয়ে সমালোচনা হতো, তাই তিনি যাননি।

যদিও বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্না (যিনি জামায়াতের সাথে ছিলাম না, এখনও নেই বলে দাবি করেন), গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী (জামায়াতের প্রতিটি সভায় উপস্থিত থাকেন যিনি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল (জামায়াতের আবাসিক বুদ্ধিজীবী হিসেবে বেতনভুক্ত) প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সরকারবিরোধি অভিন্ন প্লাটফরম থেকে ঐক্যের ডাক দেন।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট থেকে বিএনপিকে বের করে এনে ২০ দলকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠক সাবেক আমলা এবং প্রাক্তন সেনা সদস্যদের ডাকার উদ্দেশ্য ছিলো, বিএনপিকে সাহস যোগানো।

একাধিক সূত্র বলছে, গত কয়েক মাস ধরেই জামায়াত প্রাক্তন সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছে। সরকারের বিরু’দ্ধে অবস্থান গ্রহণের জন্য প্রলু’ব্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে। সরকারবিরোধি একটি অভিন্ন প্ল্যটফরম গঠনের প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। যাতে বিদেশে পলাতক অবস্থায় অনলাইনে বিবৃতি দেয়া কতিপয় বহিষ্কৃত সেনা কর্মকর্তাও যুক্ত রয়েছেন।

আর সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক করা হলো। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিতে এই উদ্যোগ কতটা সফল হয় সেটাই দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন !
  • 888
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply