কী শর্ত আছে খালেদা জিয়ার মুচলেকায়?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত বছরের ২৫ মার্চ ৬ মাসের বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি পান খালেদা জিয়া। সেপ্টেম্বরে একই শর্তে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয় আরো ৬ মাস। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার মুক্তি সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে বলেছে, এ সময়ে তিনি (খালেদা জিয়া) তার বাসভবনে থেকে চিকিৎসা করাবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাহী আদেশে যে শর্ত দেয়া হয়েছে, সেটিই একমাত্র শর্ত। এর বাইরে কোন গোপন শর্ত নেই। কিন্তু বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়া আসলে মুক্ত নন। তার হাত পা বাঁধা। এ কারনেই তিনি কোন কথা বলতে পারছেন না। নূন্যতম রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করতে পারছেন না।

বিএনপি নেতৃবৃন্দ এ ধরনের কথাবার্তা বললেও, খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকেও নীরবতা পালন করা হচ্ছে। ফলে, বিএনপির নেতারা এখন সরকারের বদলে খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের প্রতিই অ’সন্তোষ প্রকাশ করছেন। তারা জানতে চান, কী আছে খালেদা জিয়ার জামিনের শর্তে?

বিএনপির অধিকাংশ নেতাই এখন বিশ্বাস করেন, খালেদা জিয়া গোপনে মুচলেকা দিয়ে জেল থেকে বেরিয়েছেন। তারা এই মুচলেকার বিষয়বস্তু জানতে চান। ২০১৮’র ৭ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে যান খালেদা জিয়া। ২৫ মাস জেল খাটেন তিনি। জেল থেকে বেরুনোর পর তার বাসভবন ফিরোজা থেকে একদিনের জন্যও বের হননি।

দুই ঈদ ছাড়া অন্য কোন দিন বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখাও করেননি। তার ৪ জন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ঘুরে ফিরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। বাসায় ৮ জন কর্মচারী থাকলেও, প্রায় প্রতিদিনই খাবার আসে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের বাসা থেকে। বাসায় টিভি আছে, ল্যান্ডফোন আছে, মোবাইল ফোনও আছে।

কিন্তু খালেদা জিয়ার মোবাইল ফোন তার কাছে থাকে না। প্রতিদিনই খালেদা জিয়া স্কাইপে লন্ডনে তার নাতনীদের সঙ্গে কথা বলেন। ইদানিং ছেলের সঙ্গেও খুব একটা কথা হয় না। খালেদা জিয়ার বাসায় পত্রিকাও রাখা হয় না। ফিরোজার গেটে সৌজন্য কপি হিসেবে দৈনিক দিনকাল এবং নয়া দিগন্ত যায়। কিন্তু সেগুলো গেটের স্টাফরাই পড়েন।

ফিরোজার সামগ্রিক বিষয় দেখাশোনা করেন শামীম এস্কান্দার এবং সেলিনা ইসলাম। ভাই বোন প্রতিদিনই একাধিকবার ফিরোজায় যান। খালেদা জিয়ার সবকিছুই দেখভাল করেন তারাই।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, কোনরকম রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়াবেন না, এরকম শর্তেই খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মনে করেন খালেদা জিয়াকে হয়ত কোন অপ’মানজনক শর্তে মুক্তি দেয়া হয়েছে। যেটি বলতে তার পরিবারও সংকোচ বোধ করে।

তবে বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, খালেদা জিয়াকে যে শর্তেই মুক্তি দেয়া হোক, ‘আপোষহীন’ নেত্রীর উচিত, জনগনের কাছে তা প্রকাশ করা। তা না হলে তার সারাজীবনের অর্জন ধুলোয় মিশে যাবে।

শেয়ার করুন !
  • 42
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply