ফিরে দেখা ওয়ান-ইলেভেন: দুই নেত্রীকে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু প্রথম মাস অতিক্রম করার পরই তারা বুঝতে পারে, তাদের পথের বাধা হলো দুই নেত্রী। এর মধ্যে খালেদা জিয়া হয়তো চুপচাপ থাকবেন, কিন্তু নির্বাচন এবং গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায় শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকবেন না, এটা ঐ সরকারের মূলকর্তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।

১ মাস পর শেখ হাসিনাই জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ সরকারের মূল মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়ায়। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে চির বিদায় করতে মঈন ইউ আহমেদের সামনে কয়েকটি বিকল্প ছিলো;

প্রথমত, দলের ভেতর অনাস্থা তৈরী করে, তাদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পেছন থেকে যারা চালাতেন, তাদের কাছে এটিই ছিলো সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং সহজ পথ। এ লক্ষ্যে দুই দলেই সংস্কার প্রস্তাব আনা হয়। কিন্তু এক মাসের মাথায় জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ রাজনীতির বাস্তবতা অনুভব করেন।

তিনি বুঝতে পারেন, দুই দলের বিপুল কর্মী বাহিনী রয়েছে। এই কর্মীরা দুই নেত্রীর প্রতি নিঃশর্ত অনুগত। কাজেই নেতারা আলাদা হলেও শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া যেখানে থাকবেন, সেটাই হবে মূল দল। তাই ভেতরে ভাঙন ধরিয়ে খুব একটা লাভ হবে না।

দ্বিতীয়ত, দুই নেত্রীকে রাজনীতিতে অযোগ্য ঘোষণা করা। দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে, তাদের বিরু’দ্ধে দুর্নীতির মামলা দিয়ে দ্রুত বিচার করে তাদেরকে রাজনীতির অযোগ্য ঘোষণা করা ছিলো দ্বিতীয় ফর্মূলা।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতারাও বিগ্রেডিয়ার বারী এবং বিগ্রেডিয়ার আমিনকে দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য রীতিমতো চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু শুরুতেই নানা সমস্যায় জড়িয়ে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গ্রেপ্তারের পর কী প্রতিক্রিয়া হবে তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।

তৃতীয়ত, দুই নেত্রীকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে শেষ পর্যন্ত এটিকে সহজ ফর্মূলা বলে মনে হয়। এরমধ্যে গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে শেখ হাসিনা তার মেয়ে এবং ছেলেকে দেখতে কানাডা এবং আমেরিকা যেতে চান।

মঈন ইউ আহমেদসহ অপর সেনা কর্মকর্তারা ভাবলেন, শেখ হাসিনা দুই দেশে গিয়ে যদি বেশ কিছুদিন থাকেন, তাহলেই কাজ উদ্ধার সম্ভব। বিগ্রেডিয়ার বারী এবং আমিন দুজনই মনে করলেন, শেখ হাসিনা বিদেশে গেলে খালেদাকেও সহজে বিদেশে পাঠানো সম্ভব।

তবে চিন্তার বিষয় হলো, শেখ হাসিনা যেন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশে থাকেন, এই অনুরোধটা তাকে কে করবে। তখন এই দায়িত্ব দেয়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গীতা পাসি এবং ভারতের হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীকে। বাংলাইনসাইডার।
(চলবে)

শেয়ার করুন !
  • 63
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply