গুলি পুলিশ চালায়নি, শ্রমিকের লাশ ফেলা হলো কার স্বার্থে?

0

সময় এখন ডেস্ক:

বেতন ভাতা নিয়ে বিক্ষোভরত এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে অজ্ঞাত দিক থেকে আসা গুলিতে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালীন সময় এই ঘটনা ঘটলেও গুলি করার কথা অস্বীকার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাহলে কে গুলি করেছে, এই প্রশ্নের জবাব মিলছে না।

নিহত ওই শ্রমিকের নাম সুমন মিয়া। তিনি সাভারের আনলিমা অ্যাপারেলস কারখানায় কাজ করতেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সুমন মিয়া। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সানা শামিনুর রহমান শামিম বলেন, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছিল। কিন্তু আনলিমা এপারেলসের সাথে পুলিশের কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। কারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তিনি তা জানেন না।

এদিকে ঘটনার পর থেকে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে, গত কয়েকমাস ধরে সরকারকে বিপাকে ফেলতে চাওয়া প্রতিপক্ষ বারবার লাশ ফেলার চক্রান্ত করেছে, ফাঁসকৃত ফোনালাপেও যা শোনা গেছে, তারা আবারও সচেষ্ট কি না? অথবা বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য গার্মেন্টস শিল্পকে অশান্ত করে থমকে দিয়ে সুবিধা পেতে মরিয়া কয়েকটি দেশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা কোনো মহল এতে জড়িত কি না?

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া নতুন মজুরি কাঠামো শ্রমিকরা মেনে নিয়েছিল আগেই। তবে ভোটে শেষে প্রথমে রাজধানীর উত্তরা এবং পরে গাজীপুরে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নেমে পর পর তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তৃতীয় দিনে এসে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় পোশাক শিল্প অধ্যুষিত আরেক এলাকা সাভার, আশুলিয়ায়। আর সেখানেই ঘটে প্রাণহানি।

দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একই দাবিতে সড়কে নেমে আসে। সেখানে নিহত সুমনের সহকর্মী বদিউল জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সুমনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলি পুলিশ চালিয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল বলেন, পুলিশ অনেক দূরে ছিল তখন। কীভাবে কোত্থেকে গুলি এসেছে, কেউ জানে না। তাছাড়া সুমনকে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।

সুমন মিয়া শেরপুর জেলার শ্রীবরদি থানার কলাকান্দা গ্রামের আমির আলীর ছেলে। তিনি সাভারের উলাইল কর্ণপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমজাদুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই সুমনকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে সুমন মারা যান।’

শিল্প পুলিশ-১ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ জানায়, বেতন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে হেমায়েতপুরের বাগবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শামস স্টাইল ওয়্যারসের শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে ডার্গ গ্রুপ ও জেকে ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা হেমায়েতপুর-শ্যামপুর সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। পরে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাদের নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার সাউদার্ন বিডি, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস, হ্যাসন কোরিয়া সোয়েটার, এসবিএস ডেনিম ওয়্যার, লিলি অ্যাপারেলস, ক্রস ওয়্যার, ম্যাট্রো নিটিং ও এশিয়ান নিটওয়্যারের শ্রমিকরাও বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানেও পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়-পাল্টা ধাওয়া হয়।

সাউদার্ন বিডির শ্রমিকরা জানান, তারা জিরাবো-বিশমাইল সড়কে নামলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে বিক্ষোভ দমাতে চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply