ওয়েলডান হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম

0

প্রবাস ডেস্ক:

দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমান। কোম্পানির কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশেষ দরকারে সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাসে আসেন। এসে দেখতে পান দূতাবাসের মেইন গেইট বন্ধ হয়ে গেছে। রুটিন অনুযায়ী অফিস ৫টায় বন্ধ হয়ে যায়। ৩০ মিনিট দেরিতে আসায় দূতাবাসের সামনে পায়চারী করছিলেন।

সিসিটিভিতে এই দৃশ্য রাষ্ট্রদূতের চোখে ধরা পড়লে তিনি দ্রুত কনস্যুলার সেকশনকে অপেক্ষারত এই প্রবাসীকে দ্রুত সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সেদিন দূতাবাস থেকে অ’প্রত্যাশিত সেবা পেয়ে ঘটনার বিশদ বর্ণনা দেন মিজান নামের ওই প্রবাসী। অহরহ এ ধরনের সেবাদানের নজির রয়েছে সিউল বাংলাদেশ দূতাবাসের। কীভাবে দূতাবাসটি জনমুখী হলো- এমন প্রশ্নের রয়েছে সহজ উত্তর।

গণমুখী, জনমুখী, স্বচ্ছ দূতাবাস, অর্থনৈতিক কূটনীতি, সংস্কৃতিক কূটনীতি, শিক্ষা কূটনীতিকে জোর দিয়ে ৩ বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটিতে প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আবিদা ইসলাম।

সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোন আলাপকালে এ কথা জানান। বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসীদের জন্য ‘ওপেন উইন্ডো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাংলাদেশি কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে বেশ কয়েকবার দূতাবাসের পক্ষ থেকে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। দূতাবাসের ভেতরে বাইরে নানান শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন বলেও জানান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩ বছরে প্রবাসীদের জন্য কী কাজ করেছেন জানতে চাইলে আবিদা ইসলাম জানান, আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল দূতাবাসকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা। দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী রেমিট্যান্স যো’দ্ধাদের সব ধরনের সহযোগিতা ও সহায়তা নিশ্চিত করা। আমি সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।

দূতাবাসের কেউ দর্শণার্থীদের সঙ্গে অ’সৌজন্যমূলক বা অ’সহযোগিতামূলক আচরণ করছে কি না তার ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছি। দূতাবাসে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

তিনি বলেন, আমি দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পণ্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির পাশাপাশি দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছি।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একজন নারী রাষ্ট্রদূত দক্ষিণ কোরিয়া পাঠিয়েছে। বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বেশ ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোরিয়ার দৃঢ় অবস্থান। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নকে বেশ সম্মানের চোখে দেখে দেশটি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে আবিদা ইসলামকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একই বছরের ২১ ডিসেম্বর দূতাবাসে যোগদান করেন। আবিদা ইসলাম এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের (আমেরিকা অনুবিভাগ) দায়িত্ব পালন করেন।

বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা আবিদা ইসলাম কলকাতায় উপ-হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কূটনীতিক হিসেবে লন্ডন, ব্রাসেলস ও শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ মিশনের বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।

মেধাবী কূটনীতিক আবিদা ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শেয়ার করুন !
  • 314
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!