এনইডি’র গোড়াতেও সেই হেনরি কিসিঞ্জার!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

হেনরি কিসিঞ্জারকে মনে আছে? সেই কিসিঞ্জার, যিনি বাংলাদেশকে বলেছিলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি! এ সেই কিসিঞ্জার, স্বাধীন বাংলাদেশে যিনি এলেও তার সঙ্গে দেখা না হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন জাতীয় চার নেতার একজন তাজউদ্দিন আহমদ!

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কিসিঞ্জার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিক্সন-কিসিঞ্জারের সেই বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা সহজে ভুলে যাওয়ার উপায় নেই। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের আরও অনেক রাষ্ট্রে গ- হ’ত্যার অভিযোগে তার বিরু’দ্ধে সত্তুর ও আশির দশকে সমালোচনা ছিলো খোদ মার্কিন মুলুকেও।

সিআইএর গোপন তৎপরতাগুলোকে প্রকাশ্যে চালানোর জন্য ৮০’র দশকে যখন ন্যাশনাল এন্ডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এনইডি) গঠন করা হয়, তখন সেই কিসিঞ্জার ছিলেন এনইডি’র পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য।

এনইডি’র প্রতিষ্ঠাকালের দলিল দস্তাবেজ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনই্ডিকে একটি বেসরকারি দাতা সংস্থা হিসেবে হাজির করার পুরো প্রচেষ্টা চালানো হয় শুরু থেকেই। যদিও মার্কিন কংগ্রেস এর আর্থিক যোগানদাতা হিসেবে শুরু থেকে আজ অবধি রয়েছে।

খোদ মার্কিন মুলুকেই নানা সময়ে এনইডি’র তৎপরতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে, সংস্থাটি মার্কিন জনগণের করের টাকায় চলে। আর রাষ্ট্রীয় নীতি প্রতিপালনের লক্ষ্য থেকেই শুরুর দিকে এর ভিত তৈরির দায়িত্ব বর্তায় হেনরি কিসিঞ্জারের মতো লোকদের কাঁধে।

প্রতিষ্ঠাকালের নথি বলছে, কিসিঞ্জার একা নন, তার মত আরো অনেকে ছিলেন এর সঙ্গে। তাদের একজন জন রিচার্ডসন। শুরুতেই তাকে এনইডি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু কে এই রিচার্ডসন?

প্রতিষ্ঠাকালের নথিতে তাকে বলা হচ্ছে ১৯৬০ সালে তিনি ফ্রি রেডিও ইউরোপ নামের একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কিন্তু হাটে হাঁড়িটা ভাঙে নিউইয়র্ক টাইমস। ১৯৮৬ সালের ১ জুন তারা ‘ইউএস এইড ফর গ্লোবাল প্লুরাজিম’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন ছাপে। সেখানে তারা জানায়, রিচার্ডসন যে ফ্রি রেডিও ইউরোপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তা চলতো সিআইএ’র টাকায়!

অথচ এনইডির সঙ্গে সিআইএর কেউ সম্পৃক্ত হতে পারবেন না বলে একটি ফরমানের কথা সেই সময় সংবাদমাধ্যমে বলেছিলো মার্কিন প্রশাসন।

নিউইয়র্ক টাইমস’র সেই প্রতিবেদনেই জানানো হয়, ১৯৮৬ সাল অবধি আফগানিস্তানে বিদ্রোহীদের জন্য নানা খাতে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৫ মার্কিন ডলার ব্যয় করে এনইডি, যার পুরোটাই মার্কিন কংগ্রেসের অর্থায়ন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এনইডি এমন অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ সহায়তা করে, যারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে চান না।

বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে আল-জাজিরার সেই ভুয়া প্রতিবেদনের হোতা নেত্র নিউজকে এনইডির অর্থায়নের ব্যাপারে তথ্য মিলেছে। নেত্র নিউজের মত এমন সংবাদমাধ্যমকে বিভিন্ন সময়ে দুনিয়াজুড়ে সহায়তা দিয়ে এসেছে মার্কিন সংস্থাটি।

হাতে আসা নথি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এর সবই বিভিন্ন দেশে সরকারবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে। এনইডি শুরু থেকেই এই কাজটি করে আসছে, যা সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার আগে সরাসরি করতো সিআইএ। এক হিসেবে বলা যায়, সিআইএ’র একটা ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করে এনইডি। ছদ্ম পরিচয়ের আড়ালে কলকাঠি নাড়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাটি।

সত্তুরের দশকে চিলির অ্যালেন্দেকে সরিয়ে দেয়া্র ক্ষেত্রে মার্কিন ভূমিকার বিষয়টি আজ আর লুকোছাপার বিষয় নয়। সেই সময় সেখানে সিআইএ দারুণভাবে তৎপর ছিলো। চিলির সংবাদপত্র এল মার্কারিওকে সেই সময় সিআইএ ১.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেয়। তাদের মূল কাজ ছিলো অ্যালেন্দে-প্রশাসনের বিরু’দ্ধে অব্যা’হতভাবে সংবাদ পরিবেশন করা।

এনইডি প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মাথায় মার্কিন প্রশাসন নিকারাগুয়া সরকারের বিরু’দ্ধে তৎপরতা শুরু করে। আর সেই দেশটিতে লা প্রেনসা নামের সংবাদপত্রকে সরকারবিরোধী সংবাদ প্রচারের কাজে বেছে নেয়া হয়।

আর একই সময়ে তাদেরকে অর্থ সহায়তা দেয় এনইডি। তবে চিলির মতো সিআইএ’র গোপন তহবিল নয়, এনইডির প্রকাশ্য তহবিল! ১৯৮৫ সালে এক বছরে লা প্রেনসাকে এনইডি প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেয়। উত্তরকাল।

শেয়ার করুন !
  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!