সুখবর জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই সুখবর জানাতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের স্বাক্ষরে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, শনিবার বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে।

জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোন দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভা গত ২২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। সেখানে দ্বিতীয় দফা পর্যালোচনা শেষে শুক্রবার রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিডিপি ৩টি সূচকের ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। ৩টি সূচকেই বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করে অনেক এগিয়ে রয়েছে।

জাতিসংঘের এই ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়ে শুক্রবার সিদ্ধান্ত আসবে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। ওই সময় সিডিপি জানিয়েছিলো, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য বিবেচ্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এ ৩টি সূচকেই বাংলাদেশ যোগ্যতা অর্জন করেছে।

তবে তা ৬ বছর ধরে রাখতে হবে। ৩ বছর পরপর পর্যালোচনা করা হবে। ৩ বছর পর সিডিপির সেই ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা শেষ হচ্ছে আজ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেও আরও ৩ বছর পর্যবেক্ষণে থাকবে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমে যাবে। তাই এখন থেকেই বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘ যে সূচকগুলো বেঁধে দিয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই বাংলাদেশ ভালো করেছে। করোনাতেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা যেভাবে ধরে রেখেছে তা প্রশংসনীয়।

এর আগে ২০১৮ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশ সবগুলো সূচকেই ইতিবাচক ফল অর্জন করেছিলো। তবে করোনার কারণে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের এ প্রস্তুতিকাল আরও ২ বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত করার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) প্রফেসর শামসুল আলম বলেন, আমরা আশা করছি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সিদ্ধান্ত দেবে সিডিপি।

তবে প্রস্তুতিপর্বের সময় ২ বছর বাড়ানো হয় কিনা, সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। এটি হলে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন !
  • 230
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!