চুপিসারে সস্ত্রীক টিকা নিতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের নজরে ফখরুল!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

‘পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে!’ ঠিক তেমনই ঘটেছিল ঘটনাটি।

করোনার টিকা নিয়ে দিনে-দুপুরে সরকারের বিরু’দ্ধে প্রকাশ্যে নানান অপপ্রচার করলেও চুপিসারে সস্ত্রীক টিকা নিতে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছাড়াই নীরবে এসেছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু কয়েকজন সংবাদকর্মীর তীক্ষ্ম নজরে পড়ে যান এই বিএনপি নেতা। মাস্ক পরা থাকলেও তাকে চিনে ফেলেন সংবাদকর্মীরা।

মাত্র কিছুদিন আগেও প্রকাশ্যে ফখরুল বলেছিলেন, টিকা নিয়ে সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই। আমরা যারা সাধারণ মানুষ আমরা কী কখন পাবো, না পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা এখানে নাই।

আরও বলেছিলেন, উচ্চ পর্যায়ের মানুষদের জন্য ইতিমধ্যে তালিকা প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা খবর পেয়েছি, গুলশান ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব এই সমস্ত ক্লাবগুলোতে যারা সদস্য আছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। আরো শুনতে পারছি, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা যারা আছেন তাদের জন্য করা হচ্ছে, মন্ত্রীদের জন্য করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ টিকা পাবে কি না তা নিয়ে রোডম্যাপ নাই।

এছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেই দিয়েছিলেন, ভারতের টিকার ওপর বিএনপির আস্থা নাই। ভারত তাদের টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে বাংলাদেশকে টিকাগুলো দিয়েছে।

এমনকি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে আগে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

অথচ এখন প্রধানমন্ত্রী টিকা নেয়ার আগেই চুপিসারে নিজে স্ত্রীসহ টিকা গ্রহণ করলেন। শুধু যে তিনি আর তার স্ত্রীই টিকা নিয়েছেন তা নয়, তাদের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হেলাল উদ্দিনও টিকা নিয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে গুজব প্রচারের মাস্টারমাইন্ড মির্জা ফখরুল সকাল ১০টায় সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে চুপিসারে টিকা নিতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের কাছে ধরা পড়ে যান।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ে মিডিয়াপাড়ায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিএনপি কার্যালয়ের বক্তব্য চান তারা। দিনভর চুপ থেকে শেষ পর্যন্ত চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান রাতে গণমাধ্যমের কাছে এ তথ্য স্বীকার করেন।

এরপর সোমবার (১ মার্চ) রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেলিফোনে বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম সকাল ১০টার দিকে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে করোনা টিকা নিয়েছি।

শারীরিক কোনো সমস্যা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি সহাস্যে বলেন, সকাল ১০টায় নিয়েছি, এখন রাত ১০টা বাজে এ পর্যন্ত কোনো সাইডইফেক্ট হয়নি। শরীরে কোনো ব্যথা অথবা জ্বরের ভাব নেই।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক সিঙ্গাপুরে যান বিএনপি মহাসচিব। ২৫ দিন চিকিৎসা শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন তিনি।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, সেখানে বিদেশিদের করোনার টিককা নেওয়ার সুযোগ নেই। আর দেশে রেজিস্ট্রেশন করে সুযোগ হলে দেশেই টিকা নেব।

ইতিমধ্যে চুপচাপ টিকা নিয়ে নিয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী টিকা নিয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দকেও নিতে বলেন। এরপর দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনসহ অনেক সিনিয়র নেতা টিকা গ্রহণ করেন।

এরপরই শুরু হয় জোয়ার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকসহ আরও অনেকে টিকা নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন !
  • 129
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!