বাংলাদেশের প্রতি যে কারণে কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ ভারতের

0

কূটনৈতিক ডেস্ক:

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। সেখান থেকে ১২ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করছে। এই সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করছেন আর তার প্রস্তুতি হিসেবে কাল ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্কর।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা অ’স্বস্তি এবং আর নানা রকম ছোট ছোট বিরোধের জায়গা থাকলেও দুই দেশই স্বীকার করে যে, এই সম্পর্ক একটা নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং নরেন্দ্র মোদির এই সফরের মধ্য দিয়ে এ সম্পর্ক আরও বৃহত্তর পরিসরে যাবে বলে মনে করেন দুই দেশের কূটনীতিকরা।

তবে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশকে যা দিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বাংলাদেশ-ভারতকে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থান। সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ঘাঁটি করতো। সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে তারা প্রশিক্ষণ নিতো। যার ফলে ভারতের আসাম-ত্রিপুরা-দার্জিলিংসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্ত ছিল, বাংলাদেশের মাটি কখনোই বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জ’ঙ্গিদেরকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এটি তিনি কেবল ঘোষণা হিসেবেই দেননি, কার্যকরও করেছেন। যার ফলে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখন দেখা যায় না।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় ছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশ ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিশেষ করে ১০ ট্রাক অ’স্ত্রের ঘটনার পর এটা প্রমাণিত হয়েছিল, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অ’স্ত্র দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শেখ হাসিনা সেটি বন্ধ করেছেন।

গতকালও হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে র‍্যাব বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে এসব উদ্ধারের ঘটনায় এটা পরিষ্কার হয়ে যায়, এসব ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরাই ব্যবহারের জন্য এনেছিল। এমন একটি নয়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রচুর অ’বৈধ অ’স্ত্র উদ্ধার করেছে। যা ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাজে ব্যবহার হতো বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।

আর এটি হলো ভারতের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির কারণ। বাংলাদেশ-ভারতের অ’মীমাংসিত কিছু বিষয় আছে, যাতে ভারতের মনোযোগী হওয়া উচিত শুধু এই কারণেই। কারণ ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ ছিল এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। বাংলাদেশের আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেয়ে তারা অনেকটাই এখন হারিয়ে গেছে।

আর সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের এই ঋ’ণ ভারত শোধ করবে কীভাবে, সেটি কূটনীতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন। তাই ভারত যদি এখন তিস্তা নদীর পানিসহ বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনাগুলোর বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির এই সফরেই মীমাংসা করে, দুই দেশের সম্পর্ক আরও নতুন মাত্রা পাবে বলেই মনে করেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন !
  • 42
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!