করোনার রিপোর্ট নিয়ে জালিয়াতি, সাবরিনার জামিন না মঞ্জুর

0

আইন আদালত ডেস্ক:

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার রোগীর সাথে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় রাজধানীর জেকেজি হেলথ কেয়ারের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন হোসেন জামিন পাননি।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ সোমবার এই আদেশ দেন। সাবরিনার পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী প্রণব কান্তি ভৌমিক।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের বিরু’দ্ধে অভিযোগ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ অভিযোগে সাবরিনা ও তার স্বামী জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরী ও আরও ৬ জনের বিরু’দ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়।

গত বছর ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে আসামিদের বিরু’দ্ধে চার্জশিট দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবরিনা ও আরিফুলের সহযোগী সাঈদ চৌধুরী, জালিয়াত চক্রের প্রধান হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস এবং মামুনুর রশীদ।

এর মধ্যে ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ছিলেন। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখা’স্ত করা হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসা সাবরিনা সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। যাতে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গ হয়। তাই সাবরিনাকে সাময়িক বরখা’স্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ১২ জুলাই সাবরিনাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৭ আগস্ট বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলায় বিচার শুরু হয়।

দেশে করোনা ভাইরাসের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল জেকেজি হেলথ কেয়ার। জুনের শেষে জানা যায়, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথ কেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল জেকেজি। নমুনা পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদও তারা দিচ্ছিল।

পরে পুলিশ অভিযান চালায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে। গ্রেপ্তার করা হয় বেশ কয়েকজনকে। গত ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী আসামিদের বিরু’দ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০ আগস্ট ঢাকার মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী ৮ আসামির বিরু’দ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

উল্লেখ্য, ডা. সাবরিনার নামে করোনার রিপোর্ট জালিয়াতি ছাড়াও জালিয়াতি করে ভিন্ন নাম-পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির অপর একটি মামলা চলমান রয়েছে।

গত বছরের ৩১ আগস্ট সাবরিনার বিরু’দ্ধে গুলশান থানা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মমিন মিয়া রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলা করেন। এতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বৈত ভোটার হওয়া এবং একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে অপরাধ করেছেন সাবরিনা।

২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনের ১৪ ও ১৫ ধারায় এ মামলা করা হয়েছে। ১৪ ধারায় মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ ১ বছরের জেল এবং ২০ হাজার টাকা জরি’মানার বিধান আছে। ১৫ ধারায় একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার অভিযোগ প্রমাণ হলেও একই সাজা হতে পারে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!