পাকিস্থানের উন্নতি কামনা করে বিশেষ পূজা হিন্দুদের!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্থানের নিরাপত্তা, উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে শুক্রবার করাচি শহরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিশেষ পূজা উদযাপন করেছেন। পাকিস্থানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ খবর দিয়েছে।

‘পাকিস্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নির্যাতনের শিকার হন’ -এমন ধারণাকে ভারতের অপপ্রচার বলেও পূজায় অংশগ্রহণকারীরা মন্তব্য করেন।

তারা বলেন, আমরা এখানে দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করছি, এর পাশাপাশি আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা পাচ্ছি; আমরা সুখে-শান্তি পাকিস্থানে জীবনযাপন করছি।

করাচিতে প্রতিবছর নববর্ষ উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তারই সঙ্গে এবার তারা বিশেষ পূজা উদযান করেছেন। ২০১৯ সালে পাকিস্থানের শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবার হিন্দু সম্প্রদায় যে পূজা উদযাপন করেন তার নাম ছিল সত্য ‘নারায়ণ পূজা’।

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পিটিআই সরকারের প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থার কথা জানিয়ে তারা বলেছেন, এই সরকারের কাছে আমাদের সর্বোচ্চ আশা রয়েছে যে, সরকার আমাদের জন্য ভালো কিছু করবে।

ঘোর অমাবস্যায় পাকিস্থানে আরাধনা হয় দেবী কালীর

নিশি রাতে পূজিত হন দেবী কালিকা। অশুভ শক্তিকে দূর করতে চারিদিকে প্রদীপ-মোমবাতির আলোর মালা, দীপাবলী। এই আলোর উৎসবে সামিল পাকিস্থান। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত দেশটিতে প্রাচীন কালী বন্দনা হয়। স্থান বেলুচিস্তান।

অবিভক্ত ভারতের সঙ্গে ছিল আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকা। সেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এক দেশীয় রাজ্য কালাত খানত (Khanate of Kalat)। ১৬৬৬ সালে এই দেশীয় রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর পাকিস্থানের বেলুচ প্রদেশের মাটিতে পড়ে যায় এলাকাটি। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, পাকিস্থানে নয় ভারতের সঙ্গেই যুক্ত হতে ইচ্ছুক ছিলেন কালাতের বাসিন্দারা। দিল্লিতে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন কালাতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

কিন্তু ভৌগলিক কারণেই তা সম্ভব নয়- এই বলে তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে পাকিস্থানের মাটিতেই এক দশক রাজত্ব চালায় কালাতের নবাব বংশ। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৫ সালে পাক সরকারের আনুগত্য স্বীকার করেন তারা। এসব ঘটনা নিয়েই পরিচিত বেলুচিস্তানের কালাত। তার ইতিহাসের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কালী মন্দির। ধর্ম নিরপেক্ষতার নিদর্শন রেখেই স্থানীয় কালী মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণ করতেন কালাতের নবাবরা। পাকিস্থান পুরাতত্ত্ব বিভাগ (Pakistan Department of Archaeology & Museums) বর্তমানে মন্দির রক্ষার দায়িত্বে আছে।

কালাতের গুরুত্বপূর্ণ শহর মনোরা। কালী মন্দিরটি এই শহরেই অবস্থিত। সংখ্যালঘু সমাজের অন্যতম ধর্মীয় স্থান। প্রচলিত ধারণা, মন্দিরটি হাজার বছরের প্রাচীণ। মূলত হিন্দু বণিকদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পারস্য পর্যন্ত সম্প্রসারিত ছিল তাদের বাণিজ্য। পঞ্চাশের দশকে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়। পাকিস্থান পুরাতত্ত্ব বিভাগের দাবি, ষোড়শ শতকে কালাতের মনোরা শহরে এসেছিলেন ভোজমল ভাটিয়া নামে এক ব্যক্তি। তিনি কাঠের তৈরি মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে নিয়মিত কালী পুজো হচ্ছে।

পাকিস্থানের সিন্ধু ও বেলুচিস্তান দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। করাচি ও কোয়েটা হল দুই প্রদেশের রাজধানী। এখানে সংখ্যালঘু হিন্দুরা প্রভাবশালী। এই দুই প্রদেশেই রয়েছে বিভিন্ন মন্দির ও শিখ উপাসনাস্থল। যার অন্যতম কালাত কালী মন্দির।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!