শিক্ষকতা করা যাবে না আর বিএড ছাড়া

0

সময় এখন ডেস্ক:

সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড) প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে সরকারি শিক্ষকদের বেলায় চাকরিতে যোগদানের ৫ বছরের মধ্যে বিএড প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিএড প্রশিক্ষণ থাকলে সরকারি শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে যোগ দিয়ে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট পান। আর বেসরকারি শিক্ষকদের বিএড প্রশিক্ষণ থাকলে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার বিধান রয়েছে।

এদিকে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৪) বাস্তবায়নে দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের কথা বললেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে পর্যাপ্তসংখ্যক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই।

বিএড এবং মাদ্রাসার ক্ষেত্রে বিএমএড সমমানের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২২ জন শিক্ষক। অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষকের এই প্রশিক্ষণ নেই। এর মধ্যে ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের হার সবচেয়ে কম। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা এসব শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা হিসেবে বিএড প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৪) বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে গত মাসের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়াতে বিএড প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যানুযায়ী, দেশের সরকারি এবং এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষকসংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে বিএড প্রশিক্ষণ নেই ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২২ জন শিক্ষকের। এর মধ্যে রয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৩ জন পুরুষ ও ৩০ হাজার ২৪৯ জন নারী শিক্ষক। পরিসংখ্যানে আরো দেখা গেছে, ৩০ বছর বয়সী প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের সংখ্যা ৪ হাজার ৯৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী শিক্ষক ৬০ হাজার ২৮১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী শিক্ষক ৬১ হাজার ৮৭ জন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিক্ষক ৩০ হাজার ২৫৬ জন।

প্রশিক্ষণবিহীন এসব শিক্ষকের মধ্যে বেশির ভাগই মাদ্রাসার। দাখিল ও আলিম মিলিয়ে ১ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক রয়েছেন। যাদের বেশির ভাগের বিএড বা সমমানের ডিগ্রি নেই। সর্বোচ্চ ১০ হাজার শিক্ষকের বিএড পর্যায়ের ডিগ্রি রয়েছে। কয়েক বছর আগে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর গঠিত হলেও শিক্ষকদের মান উন্নয়নে তারা এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ মাদ্রাসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিএমটিটিআই) মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যাচেলর ইন মাদ্রাসা এডুকেশন (বিএমএড) করার সুযোগ করে দিয়েছি। খুব স্বল্প খরচে শিক্ষকরা এখান থেকে ১ বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এরই মধ্যে কিছু শিক্ষক বিএমএড করেছেন। তবে অনেকেরই আগ্রহ কম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক বিএড বা সমমানের ডিগ্রি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সবাই বাধ্য হতেন।’

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply