বাবুনগরী-মামুনুলদের ক্ষমতার লোভের বলি হয়েছিলেন আহমদ শফী

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বর্তমান রাজনীতিতে এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। তবে গত এক বছর আগেও এই সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। সরকারের সাথে ছিল সুন্দর সম্পর্ক। কিন্তু ২০২১ সালে এসে হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কারণ হিসেবে জানা যায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগঠনটি হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো। কিন্তু তিনি মা’রা যাবার পর তার পরিবর্তে সরকার বিরোধী বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট জুনায়েদ বাবুনগরী ও স্বাধীনতা বিরোধী আজিজুল হকের পুত্র মামুনুল হককে প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতায় আনা হয়। আর এরপরই ভোল পাল্টায় হেফাজতে ইসলাম। তার আগে গোপনে তাদেরকে বৈঠক করতে দেখা যায় দেইল্যা রাজাকার এর পুত্র মাসুদ সাঈদীর সাথে।

বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট বাবুনগরী ও মামুনুল হক ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়’যন্ত্র শুরু করেন ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছিল প্রায় ২০ হাজার ছাত্র। তারা বিভিন্ন শিক্ষকের অনুসারী হিসেবে নানা ভাগে বিভক্ত। বিষয়টি ভালোভাবে জানতেন বাবুনগরী। বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায় অবস্থিত সরকার বিরোধী বিভিন্ন ইসলামিক নেতার সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করেন।

অতঃপর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করে ১১ সেপ্টেম্বর আল্লামা শফী বিরোধী নেতাদের নিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী তার ফটিকছড়ির বাসায় একটি মিটিংয়ের ডাক দেন। উক্ত মিটিংয়ে মামুনুল হক ও নাসির উদ্দিন মুনিরের মতো নেতারা অবস্থিত ছিলেন।

উক্ত মিটিংয়ে মামুনুল হক ঘোষণা করেন, শফী হুজুরের ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করা না হলে শফী হুজুরকে চরম মূল্য দিতে হবে। যার অংশ হিসেবে ১৬ তারিখ হাটহাজারী মাদ্রাসায় আন্দোলন শুরু হয়। মামুনুল হকের এমন ঘোষণাই আল্লামা আহমদ শফীকে হ’ত্যার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করেন অনেকে।

মনে রাখা প্রয়োজন, হাটহাজারী মাদ্রাসায় ৮ হাজার ছাত্রের থাকা খাওয়ার খরচ আল্লামা শফী সাহেবের কমিটির লোকজন বহন করতেন। ফলে এমন মাদ্রাসায় আন্দোলন কখনোই সম্ভব ছিলো না। যা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ষড়’যন্ত্রের কারণে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে আল্লামা শফীকে হ’ত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন আল্লামা শফীর শ্যালক মাওলানা মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের পরিকল্পনা এবং আরেক যুগ্ম-মহাসচিব নাসির উদ্দিন মুনিরের নেতৃত্বে আল্লামা আহমদ শফীকে ‘হ’ত্যা’ করা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে আহমদ শফীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হ’ত্যা করা হয়েছে। যে মানুষটি অক্সিজেন ছাড়া চলতেই পারেন না, সেটা আবার হাই ফ্লো অক্সিজেন। সেখানে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অক্সিজেন ছাড়া আটকে রাখা হয়েছে।

এ কারণে তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। পরে বাদী নিজস্ব ব্যবস্থায় হুজুরকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা জানান, হুজুর ততক্ষণে কোমায় চলে গেছেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে মৃ’ত ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি অবশ্যই রহস্যজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করা হলেও বাবুনগরী-মামুনুল গং তদন্তের বিরোধিতা করে সমাবেশ করেন।

এছাড়া আল্লামা আহমদ শফীর মৃ’ত্যুর ২ দিন আগে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে একদল উ’চ্ছৃঙ্খল ছাত্রকে মাঠে নামানো হয়। তারা আনাস মাদানীর বিরু’দ্ধে উগ্রবাদী আচরণ করে। আহমদ শফীর কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে আসামি নাছির উদ্দিন মুনির ধমকের সুরে বলেন, ‘তুই হচ্ছিস বুড়ো শ’য়তান, তুই ম’রবি না, তুই সরকারের দালাল।’

এরপর ৪০-৫০ জন মিলে আহমদ শফীর কক্ষে গিয়ে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করে ওই পদে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীকে বসানোর দাবি করে চাপ প্রয়োগ করেন।

একপর্যায়ে আহমদ শফী রাজি না হওয়ায় মামুনুল হকের মোবাইলে নির্দেশমতে নাছির উদ্দিন মুনির হেফাজত আমিরের দিকে তেড়ে যান, শফী সাহেব বসা অবস্থায় চেয়ারে লা’থি দেন। নাকের অক্সিজেনের নল টান দিয়ে খুলে ফেললে আহমদ শফী চেতনা হারান। এ সময় মাইকে ঘোষণা করা হয়, আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আহমদ হুজুর দায়িত্ব থেকে অ’ব্যাহতি নিয়েছেন। যদিও আহমদ শফীর মুখ থেকে একটি কথাও শোনার সুযোগ পায়নি সাধারণ জনগণ।

১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে শফীকে জি’ম্মি করে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার ও তার পদত্যাগের ঘোষণা মাইকে বলার জন্য চাপ দেন আসামিরা। তিনি অনীহা প্রকাশ করলে তার কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিদ্যুত বন্ধ হওয়ায় অক্সিজেন ফ্লো থেমে যায়। এতেই আহমদ শফী কোমায় চলে যান।

তারপর তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসা থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে অ-শালীন ভাষায় গা’লিগালাজ করা হয়। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে।

উক্ত তথ্য উপাত্তকে বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে উপনীত হওয়া যায়, আহমদ আহমদ শফীর মৃ’ত্যু কোনভাবেই স্বাভাবিক ছিলো না। তাকে এই পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বাবুনগরী এবং মামুনুল হক গং। নিউজব্যাংক।

শেয়ার করুন !
  • 316
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!