সময় এখন ডেস্ক:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের পরম মিত্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করে বায়তুল মোকাররম মসজিদে তা’ণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১৭ নেতার নামে মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহারে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, আমরা তদন্ত করবো। যাদের বিরু’দ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরু’দ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। তবে আমরা কোনো পদ বিবেচনায় নেব না। আমরা অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে অপরাধীর বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেব। মামলাটি গতকাল রাতে হয়েছে। এখনো প্রি-ম্যাচুরড রয়েছে।
আমরা আসামিদের প্রকৃত পরিচয়, তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে, ২৬ তারিখ তারা কোথায় ছিলো, বায়তুল মোকাররমে সরাসরি উপস্থিত ছিলো কি না, তারা না’শকতার নির্দেশ উসকানি দিয়েছে কি না, হাম’লার অর্থদাতা বা মাস্টারমাইন্ড কি না তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
সেদিন সংঘ’র্ষের সময় ঘটনাস্থলে সরকার দলীয় লোকজনও ছিলো। সরকারদলের একজনই এই মামলাটি করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে ডিসি বলেন, যিনি মামলা করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি টাইলসের আঘা’তে আহত হয়েছেন। তার অন্য কোনো পরিচয় আছে কি না তা আমরা খুঁজে বের করবো।
মামলায় হেফাজতের নেতাদের নাম উল্লেখ করা হলেও তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না? জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নামাজের পর মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে অনেকে কথা বলছিলো, সেখান থেকেই সংঘ’র্ষের শুরু। তবে সেখানে কোনো সিনিয়র নেতাকে দেখিনি। অনেকে ভেতরে ছিলো, সিনিয়র নেতারা ভেতরে ছিলো কি না তা তদন্তে উঠে আসবে।
এর আগে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টায় আরিফ উজ জামান নামের ওয়ারীর এক ব্যক্তি হ’ত্যা চেষ্টা ও বি’স্ফোরক আইনসহ কয়েকটি ধারায় পল্টন থানায় মামলাটি করেন।
মামলার অন্য ১৬ আসামি হলেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব নাসির উদ্দিন মনির, নায়েবে আমির মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নুরুল ইসলাম গেহাদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নায়েবে আমির মাজেদুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়্যুবী ও সহকারী মহাসচিব মাওলানা জসিম উদ্দিন।
এছাড়াও রয়েছেন- সংগঠনটির টঙ্গীর সহ-সাংগঠনিক মাওলানা মাসুদুল করিম, অর্থ সম্পাদক মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়েজী, মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, সহকারী দাওয়া সম্পাদক মাওলানা মুশতাকুন্নবী, ছাত্র ও যুব সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মো. জোবায়ের ও দপ্তর সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মো. তৈয়ব।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে মামুনুল হকের নির্দেশে ১৭ হেফাজত নেতার নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি অ;স্ত্রসহ অতর্কিত হাম’লা চালানো হয়। এতে আরিফ-উজ-জামান গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পেছনে হেফাজতের সঙ্গে জামাত-শিবির-বিএনপি জ’ঙ্গি কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।