বাবুনগরীর সামনে খোলা ৩টি পথ

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমীর হিসেবে গদিনশীন হয়েছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃ’ত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী আমীর হয়েছিলেন অনেকটা জোর করেই। উগ্রবাদী হেফাজতিদের সমর্থন নিয়ে তিনি আহমদ শফীপন্থীদেরকে হেফাজত থেকে বহিষ্কার করে আমীরের মসনদ দখল করেছিলেন।

তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে হেফাজত বোধহয় আরো শক্তিশালী হবে। কিন্তু আমীর হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি হেফাজতকে একটি রাজনৈতিক আবরণ দেন। নানা ইস্যু নিয়ে হেফাজতকে বিত’র্কিত করে তোলেন।

এখন হেফাজত কোণঠাসা অবস্থায় চলে গেছে। সরকার হেফাজতের বিরু’দ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুধু সরকার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও হেফাজতকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক ধারণা এবং চিন্তা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একের পর এক হেফাজতের চাপ সৃষ্টি, মধ্যযুগীয় কায়দায় কথাবার্তা এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিরোধিতার নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা’ণ্ডব, সাধারণ মানুষের মধ্যে হেফাজত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে হেফাজতের নেতৃত্বরাও মনে করছেন, হেফাজত এবং কওমী মাদ্রাসাকে জুনায়েদ বাবুনগরী এক কঠিন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছেন যেখান থেকে হয়তো শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষাই আক্রা’ন্ত হবে। পাশাপাশি হেফাজতের নেতারা মনে করছেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং অরাজনৈতিক আলেম-ওলামাদেরকে ব্যবহার করে জুনায়েদ বাবুনগরী তার রাজনৈতিক অভিপ্রায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।

এ অবস্থায় নেতৃত্ব গ্রহণের অল্পসময়ের মধ্যেই জুনায়েদ বাবুনগরী একা হয়ে গেছেন। তার পাশে কেউ নেই। যারা তাকে বিপুল সমর্থন জানিয়ে আমীর বানিয়েছিল তারাই এখন তার সমালোচনায় মুখর। জামায়াত নেতা রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদীর সাথে আহমদ শফীর জীবদ্দশাতেই হেফাজতের দখল নেয়ার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করেছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী। যা পরবর্তীতে ছবিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ষড়’যন্ত্রের আভাস পাওয়া যায়।

যেখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোটের অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী মীর নাসিরের মামা।

হেফাজতের নেতারা বলছেন, জুনায়েদ বাবুনগরীর সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে। এই তিনটি পথের যে কোনো একটি পথ তাকে বেছে নিতে হবে।

১. দলের নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ: এই বিত’র্ক এড়াতে জুনায়েদ বাবুনগরীকে দলের নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হবে। হেফাজতের অধিকাংশ নেতা মনে করছেন, এখন যদি বাবুনগরী সরে দাঁড়ান এবং সত্যিকারের একজন আলেম যদি হেফাজতের দায়িত্ব নেন, যার কোনো রাজনৈতিক চরিত্র নেই, তাহলে হেফাজত এই বিত’র্ক থেকে মুক্তি পেতে পারে।

এটিকেই সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন হেফাজতের সিংহভাগ নেতারা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তবে জুনায়েদ বাবুনগরী এখন পর্যন্ত পদত্যাগের কোনো অভিপ্রায় ব্যক্ত করেননি। এরকম কোন আকাঙ্ক্ষাও তার নেই বলে তিনি দলের ঘনিষ্ঠদেরকে বলেছেন।

২. নিষ্ক্রিয় হয়ে যৌথ নেতৃত্ব দিয়ে হেফাজত চালাবেন: হেফাজতের বর্তমান সঙ্কটে জুনায়েদ বাবুনগরীসহ দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে এসেছে, তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন না কিন্তু আমীরের ক্ষমতা খ’র্ব করে যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে দল পরিচালনা করা হবে। হেফাজতের যারা সিনিয়র আছেন, তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন হেফাজত কি করবে না করবে।

জুনায়েদ বাবুনগরী নামমাত্র আমীর হিসেবে থাকবেন। যেটি আল্লামা শফীর শেষ দিনগুলোতে হয়েছে। সেই সময় আল্লামা শফী অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। আলেম এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই সে সময় হেফাজতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করতেন।

৩. সরকারবিরোধীতায় প্রকাশ্য হবেন: জুনায়েদ বাবুনগরীর সামনে তৃতীয় বিকল্প হলো সরকারের বিরু’দ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। যে পথে তিনি চলেছেন সেই পথে থাকবেন। এখানে যদি হেফাজত ভাগ হয়ে যায়, খন্ডিত অংশ নিয়ে তিনি এগিয়ে যাবেন এবং উগ্রবাদী রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ দেবেন হেফাজতকে।

কিন্তু তাতে হেফাজতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জুনায়েদ বাবুনগরীও যে লাভবান হবেন না, বলা বাহুল্য। এখন দেখার বিষয় বাবুনগরী কোন পথে যান। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 217
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!