মামুনুলকাণ্ডে লেজে-গোবরে অবস্থা হেফাজতের!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

এক মামুনুলের জন্য পুরোপুরি লেজে-গোবরে অবস্থা হেফাজতে ইসলামের। যতটা লম্ফঝম্ফ করেছিল হেফাজতের নেতৃবৃন্দ, এখন ঝরে পড়ে গেছে কাঁঠাল পাতার মতো। শেষ পর্যন্ত হেফাজত হয়তো সারেন্ডার করতে যাচ্ছে। নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। হেফাজতে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমীর নির্বাচিত হওয়ার পর হেফাজত আগ্রাসী অবস্থানে চলে যায়। তারা সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে থাকে। প্রথমে তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে এবং ভাস্কর্য বিরোধিতার অবস্থান থেকে তারা সরে আসেনি। সরকারই বরং ভাস্কর্য ইস্যু থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়।

এতে হেফাজত আরো সাহস পেয়ে যায়। তারা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসার বিরোধিতা করে। এই বিরোধীতা নিয়েও সরকার হেফাজতের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করে। হেফাজতের নেতারা সেসময় আশ্বস্ত করেছিলো, তারা বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ করবে না, তাদের প্রতিবাদ হবে শান্তিপূর্ণ। কিন্তু হেফাজত তাদের কথা রাখেনি, মোনাফেকি করেছে জাতির সাথে।

২৬-২৭ মার্চ তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তা’ণ্ডব চালিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে যে ঘটনা হেফাজত ঘটিয়েছে, তা নজিরবিহীন এবং একাত্তরের ব’র্বরতার সঙ্গে তুলনীয়। এরপরই সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। সংসদে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের বিরুদ্ধে সরাসরি বক্তব্য রাখেন। তারপর আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের টনক নড়ে। তারা হেফাজতের বিরু’দ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করে।

আর এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবাসিক কওমি মাদ্রাসাগুলো বন্ধের নির্দেশ দেন। যদিও সেই নির্দেশ এখনো কার্যকর হয়নি। তবে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেছেন, আজ (শুক্রবার) থেকে এ বিষয়ে মাঠে নামছে অধিদপ্তরের একটি টিম। মাদ্রাসা খোলা দেখলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন তারা।

ইতিমধ্যে হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরু’দ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। ২৩ শীর্ষ নেতার ব্যাংক হিসেব তলব করা হয়েছে। আর এতেই হেফাজতের নেতাদের মনে ভয় ঢুকে গেছে। তাদের মতে, সরকার যদি শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে যায়, তাহলে তাদের সামনে অস্তিত্বের সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণেই হেফাজত এখন আপসের পথ খুঁজছে।

সূত্র বলছে, হেফাজত নেতাদের কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন, ২৬-২৭ মার্চের ঘটনার জন্য হেফাজত জাতির কাছে যদি দুঃখ প্রকাশ করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে বিষয়টি ‘সরল’ হয়ে যেতে পারে। এজন্য তারা সরকারের সঙ্গে দেনদরবারের চেষ্টা করছে। একটি সূত্র স্বীকার করেছে, হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ আলোচনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সরকার এখন ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’ নীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দুজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং একজন মন্ত্রী বলেছেন, হেফাজতের সাথে সমঝোতার প্রশ্নই আসে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হেফাজত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজত আবারও বিক্ষোভ সমাবেশের চেষ্টা করলে সেটা সরকার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর হস্তে দমন করেছেন।

আর এসব কিছু মিলিয়ে হেফাজত এখন চাপের মুখে আছে। সংগঠনের অনেক নেতাই নতুন করে সহিং’সতা বা আন্দোলনের ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। তারা বুঝতে পারছেন, পাশার দান উল্টে গেছে। জাতির সামনে তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে। বরং তারা রাস্তায় নেমে এলে, সহিং’স হলে তা হেফাজতকে নিঃশেষ করে দেবে।

সেই সাথে মাদ্রাসার ছাত্র, যারা হেফাজতে ইসলামের মূল শক্তি, এদের বেশিরভাগের পরিবারই দরিদ্র। মামলা এবং গ্রেপ্তার তাদের পুরো পরিবারকে পথে বসিয়ে দেবে। পড়ালেখা তো বন্ধ হবেই, সেই সাথে সরকারি লাল খাতায় একবার নাম উঠলে পরবর্তীতে অপরাধ না করলেও বার বার তলব পড়বে। এ কারণেই নেতারা আপস মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে এটা যে হালে পানি পাবে না, বলাই বাহুল্য।

আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, হেফাজত কথা রাখেনি। তারা বলেছিল, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করবেন না। কিন্তু তারা কথা রাখেনি, মোনাফেকি করেছে।

হেফাজতের সাথে সমঝোতার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন দলের মধ্যমসারির নেতৃবৃন্দও। হেফাজতকে প্রশ্রয় দেয়ায় তারা যে চেহারা প্রকাশ করেছে, তাতে আওয়ামী লীগের বোঝা হয়ে গেছে, ভবিষ্যতে তারা আরও সুযোগ পেলে দেশটাকে আফগানিস্তান বা পাকিস্থান বানিয়ে ফেলতে কোন কসুর করবে না।

তবে হেফাজতের নেতাদের আশা, প্রধানমন্ত্রী উদার; হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক ছিলো। সংগঠনের একটি জামায়াতঘেঁষা মহল এই সুসম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা করেছে। তবে হেফাজতের মূলধারা আসলে এমনটা চায়নি- এটা বিশ্বাস করবেন হয়ত প্রধানমন্ত্রী।

হেফাজতের চট্টগ্রাম মহানগরীর একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমাশীল, দয়ালু। কেউ ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেন তিনি। অতীতেও এমনটা দেখা গেছে। তাই একটা সুযোগ চাইবেন তারা।

শেয়ার করুন !
  • 217
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!