হেফাজতি সাংবাদিক এনায়েতুল্লাহর কারণেই ধরা খেলেন মামুনুল (ফোনালাপ)

0

সময় এখন ডেস্ক:

হিতে বিপরীত হওয়া বোধহয় একেই বলে। নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সংগঠনের নেতা মামুনুল হকের ইজ্জত আব্রু রক্ষা করতে গিয়ে হয়ত জানতেন না তার এই আলাপচারিতা কখনও প্রকাশ পেয়ে গেলে কী ঘটতে পারে।

বার্তা ২৪ ডটকম নামক একটি পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিক ও হেফাজতে ইসলামকে বুক দিয়ে আগলে হেফাজতকারী সাংবাদিক মুফতি এনায়েতুল্লাহ এবং মামুনুল হকের মধ্যকার একটি কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছে।

যাতে বোঝা যায়, এই সাংবাদিক এবং প্রাক্তন মাদ্রাসা শিক্ষক তার নেতা মামুনুল হক আপত্তিকর অবস্থায় রয়্যাল রিসোর্টে আটকের ঘটনা শুনে স্থির থাকতে পারেননি। চেষ্টা করেছেন এই ঘটনাটিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাজানো নাটক বলে প্রপাগান্ডা তৈরী করতে।

তবে সত্য হলো ছাইচাপা আগুনের মত, কখনই চাপা থাকে না। বের হয়ে এলো স্বাভাবিকভাবেই। যেভাবেই হোক দৈনিক সমকাল এবং বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সাবেক এই সাংবাদিক মামুনুল হকের নারীঘটিত ঘটনাটি জানতে পারেন কিছুটা সময়ের ব্যবধানে, যখন নকল স্ত্রীকে আসল বলে সাক্ষী দেয়ার প্রয়োজনে মামুনুল হক তাকে ফোন করেন।

ঘটনাস্থলে না থাকায় তিনি বা তার পত্রিকার টিম সেই উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেননি। ততক্ষণে প্রশাসনের লোকজন মামুনুল হকের চারপাশে অবস্থান নেন অ-প্রীতিকর ঘটনা এবং গুজব সৃষ্টি প্রতিহত করতে।

ঢাকার জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদরাসা থেকে কওমি শিক্ষা ক্যারিকুলামের সর্বোচ্চ স্তর দাওয়ায়ে হাদিস এবং ২০০১ সালে ইসলামি আইন বিষয়ক ক্লাস ইফতা সমাপ্ত করা এই সাংবাদিকের ফোনালাপে যা ছিল:

মামুনুল হক ফোন করলেন এনায়েতুল্লাহকে। রিসিভ করেন তিনি।

– স্লামালেকুম, মামুন ভাই। – ওয়ালাইকুমসালাম। নিউজ তো দেখছেন, না? – নিউজ তো দেখছি, হেল্লিগাই তো কইতেছি, এহন আমনে কই? – আমি এখনও ওই যে হোটেলেই আছি। – মাইয়া কেডা ওইটা? – ওইডা এই যে, আপনার সেকেন্ড ইয়ে ভাবী। – অ, আচ্ছা, কাপাসিয়ার ভাবী? – খুলনার। – আচ্ছা, ঠিকাছে। এখন কী? আইনি ঝামেলা আছে?

– হ, এখন ওই যে, ওনারা সাক্ষী চাইতেছে আরকি। এই পুলিশ অফিসারের সামনে। আপনে আপনার পরিচয় দিয়া- পরিচয় দিয়েন আগে। পরিচয়টা দিয়ে কথা বলেন। – আচ্ছা।

পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোনটি দিলেন মামুনুল হক।

– আসসালামু আলাইকুম (পুলিশ কর্মকর্তা) – ওয়ালাইকুম সালাম। – ভাইজান কেমন আছেন? – আলহামদুলিল্লাহ, আপনি ভালো আছেন ভাই? – জি ভাই, ভালো আছি। আপনি কে বলছিলেন, আগে একটু পরিচয়টা… – আমার নাম হইল মুফতি এনায়েতুল্লাহ। – মুফতি এনায়েতুল্লাহ? কোথায় আছেন আপনি? – আমি চাকরি করি হইল বার্তা ২৪ ডটকমে। – কোথায়? – বার্তা ২৪ ডটকমে চাকরি করি।

– ও, বার্তা। আচ্ছা, মামুনুল হক সাহেব বলতেছেন যে সেকেন্ড ওয়াইফ, এটা নিয়ে আপনি কতটুক কী জানেন? – এটা আমি জানি, উনি উনার সেকেন্ড ওয়াইফ, এটা আমি জানি। – ওনার শ্বশুর বাড়ি কোথায়? – খুলনাতে। – খুলনার কোথায়? – আমি এক্স্যাক্ট ঠিকানা বলতে পারব না, কারণ আমার বাড়ি হইল খুলনা। আমি থাকি ঢাকাতে। – আপনি কতদিন ধরে জানেন এটা? ঘটনাটা?

– আমার সাথে তো উনার পরিচয়… সাকুল্যে মিলিয়ে ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়। – হুম। উনি সেকেন্ড ওয়াইফ, এটা আপনি জানেন? – হ্যাঁ, এটা আমি জানি। জানি তাই দায়িত্ব নিয়ে বললাম। না জেনে এভাবে তো একটা জিনিস বলা যায় না। – ঠিক আছে, ঠিক আছে।

ফোনালাপ:

শেয়ার করুন !
  • 1.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!