লকডাউনের বিকল্প ভাবছে সরকার!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

আগামীকাল থেকে সারাদেশ লকডাউনে যাচ্ছে। এবার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবারের লকডাউন হবে অত্যন্ত কঠোর। ইতিমধ্যেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগ লকডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

তবে লকডাউন শুরুর আগেই জনজীবনে লকডাউন নিয়ে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোজা, ঈদ এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে থাকা মানুষ এই লকডাউনের বিরোধীতা করছে। ইতিমধ্যেই দোকান মালিক সমিতি লকডাউনের মধ্যেও দোকান খোলার দাবি জানিয়েছে।

ছোট ছোট পেশার মানুষ অনিশ্চতায় ভুগছেন। তারা মনে করছেন লকডাউন সীমিত আকারে হলেও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ দেয়া দরকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং শিল্প উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যেই লকডাউনের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণাটা বেশি। আর এই অবস্থায় লকডাউনের ব্যাপারে সরকার আগামী ২১ এপ্রিলের পর আবার লকডাউন বাড়াবে কি না এটি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে সরকার।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তারা আগামী কয়েকটা দিন দেখতে চান করোনা পরিস্থিতির কী হয়। ৭ দিনের পরে লকডাউন না বাড়িয়ে বিকল্প কী করা যায় সেটি নিয়েও চিন্তা করছে সরকার।

সূত্র বলছে, সরকার লকডাউনের একাধিক বিকল্প নিয়ে ভাবছে। ২১ তারিখের পর দ্বিতীয় দফা লকডাউন না করে বরং সভা-সমাবেশ, গণ জমায়েতের মতো বিষয়গুলোকে বন্ধ রেখে আস্তে আস্তে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখার কৈশল প্রণয়ণ করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিকে যেমন করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা মনে করছেন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট যাতে সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারেও সতর্ক নজর রাখছেন।

আর এ কারণেই আগামী ২১ এপ্রিলের পর লকডাউন না দিয়ে বরং সবকিছু সীমিত আকারে চালু করে দেয়ার পক্ষে সরকারের একটি বড় অংশ। প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলছেন। সরকার লকডাউনের বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু বিষয় ভাবছে।

১. গণ জমায়েত বন্ধ করা: গণ জমায়েত হতে পারে এ ধরনের অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা। যেমন- বিয়ের অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, রাজনৈতিক কর্মসূচি ইত্যাদি বন্ধ রাখা।

২. সীমিত আকারে সবকিছু সচল রাখা: সীমিত আকারে সবকিছু যাতে সচল থাকে সে ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ রমজান মাসে এমনিতেই অফিসের সময়সূচি সংক্ষিপ্ত। তাই সময়সূচি কম রেখে এবং অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস চালানো যায় কি না সেটিও একটি সম্ভাব্যতা বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

৩. স্থানীয় লকডাউন: যেসব এলাকাতে করােনা সংক্রমণ বেশি, সেই এলাকাগুলোতে লকডাউন করা এবং জোনিং ম্যাপের মাধ্যমে অতি সংক্রমিত এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে বন্ধ করার মাধ্যমে সংক্রমণ ঠেকানো।

৪. চলাচল বন্ধ রাখা: দূরপাল্লার বাস, নৌযান বন্ধ রেখে করোনা মোকাবেলা করা।

৫. স্বাস্থ্যবিধির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া: সরকার করোনা মোকাবেলায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপরে গুরুত্ব দেবে।

সরকার আগামী ৭ দিন পরিস্থিতি দেখতে চায়, এর মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। করোনা পরিস্থিতি যদি শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে তাহলে ২১ এপ্রিলের পর আর লকডাউন বাড়ানো হবে না। বরং সরকার একটি স্বাস্থ্যবিধি সম্মত পদ্ধিতিতে অর্থনৈতি কর্মকাণ্ড সচল করার দিকে মনোযোগ দেবে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 51
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!