আহমদ শফীর হ’ত্যাকাণ্ড নিয়ে পিবিআইর প্রতিবেদন ভুয়া- দাবি বাবুনগরীর

0

সময় এখন ডেস্ক:

হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর মৃ’ত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ দাবি করে এ ঘটনায় দেওয়া পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন সংগঠনটির বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরী।

শফীর মৃ’ত্যুর ঘটনায় বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে দায়ী করে পিবিআই আদালতে প্রতিদেবন দেওয়ার পরদিন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে একথা বলেন তিনি।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আহমদ শফী মা’রা গেলে তার ছেলে অভিযোগ করেন, তাকে মৃ’ত্যুর পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে শফীর শ্যালক মামলা করেন।

সেই মামলা তদন্ত করে সোমবার প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই’র ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এটি একটি ‘সাজাযোগ্য নরহ’ত্যাজনিত অপরাধ’। অর্থাৎ আসামিরা বে’পরোয়া আচরণের মাধ্যমে আহমদ শফীর মৃ’ত্যু ত্বরান্বিত করেছেন।

বিবৃতিতে জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃ’ত্যুকে অ’স্বাভাবিক আখ্যায়িত করে আদালতে পিবিআইয়ের পেশকৃত রিপোর্ট ডাহা মিথ্যে, বাস্তবতা বিবর্জিত। আমরা মনে করি এই প্রতিবেদন একটি চিহ্নিত চক্রের শেখানো বুলি।

এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে ‘নারাজি আবেদন’ দেবেন বলে জানান তিনি।

বাবুনগরী বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না, এরপরও নতুন করে আমাকেসহ আরও ১২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

হেফাজত আমির বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলের ছাড়পত্র ও ঢাকা আজগর আলী হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটসহ নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণের আলোকে দেশ-বিদেশের সকলের নিকট প্রমাণিত হয়েছে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃ’ত্যু আল্লাহ তায়া’লার হুকুমে স্বাভাবিক ছিল।

তিনি অনেকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। রোগ বেড়ে যাওয়ায় একাধিকবার উনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ আল্লাহ ইচ্ছায় তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দেন।

ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা গেলেও আগের দিন মাদ্রাসায় গোলমালের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন হাটহাজারীর বড় মাদ্রাসার (আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা) দীর্ঘদিনের মহাপরিচালক আহমদ শফী।

মাদ্রাসায় তুমুল ভাঙচুরের মধ্যে শফী মহাপরিচালকের পদ ছাড়তে বাধ্য হন। তার ছেলে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আনাস মাদানীকেও বহিষ্কার করে বাবুনগরী, কাসেমী ও মামুনুলের অনুসারীরা।

শফীর মৃ’ত্যুর দিন আনাস মাদানী ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগের দিনের অনা’কাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ‘টেনশনে হার্টফেল’ করে তার বাবা মা’রা গেছেন।

হেফাজতের মধ্যে বিরোধের মধ্যে গত ১৭ ডিসেম্বর শফীর শ্যালক মো. মইনউদ্দিন চট্টগ্রামের আদালতে মামলা করেন।

বিবৃতিতে বাবুনগরী বলেন, আল্লামা আহমদ শফীর মৃ’ত্যুর পর উনার বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ ব্যাখ্যামূলক বিবৃতির মাধ্যমে বাস্তব সত্য মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেছিলেন। তার বাবার মৃ’ত্যু স্বাভাবিক হয়েছিল বলেছিলেন।

এরপরও প্রায় ২ মাস পর দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের নামে মামলা দায়ের হওয়াতেই বোঝা যায় এই মামলা কতটা হাস্যকর ও ভিত্তিহীন।

শেয়ার করুন !
  • 158
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!