একের পর এক ধরপাকড়, হেফাজতের ভবিষ্যৎ কী?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত এক সপ্তাহে হেফাজতের অন্তত ৫০ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হেফাজতের এই সব নেতাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৭ জন।

এই সমস্ত গ্রেপ্তারের প্রেক্ষিতে হেফাজতের অস্তিত্ব নিয়ে যেমন সংশয় দেখা দিয়েছে তেমনি হেফাজতের পুনরুত্থান ঘটে কি না এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই আশ’ঙ্কা করছেন অনেকে।

বিশেষ করে নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষিতে হেফাজতের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, আন্দোলন দমনের জন্য যে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তার বিরু’দ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তবে বাবুনগরী কঠোর আন্দোলনের হুম’কি দিলেও এখন পর্যন্ত কঠোর তো দূরের কথা, বড় ধরনের কোন প্রতিবাদও করতে পারেনি সংগঠন।

সরকারের নীতি নির্ধারক মহল মনে করছে, হেফাজত আসলে এরকম গ্রেপ্তারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলনা। ২০১৩ এর পর থেকে তাদের মধ্যে একটা ধারণা হয়ে গেছিল, তারা বিচারের ঊর্ধ্বে। যাই করুক না কেন, সরকার তাদের বিচার করবে না। এই কারণেই হেফাজতের মধ্যে উগ্রবাদ এবং সরকারকে চোখ রাঙানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার অভিযান হেফাজতের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। তাই অনেকে মনে করছেন, সরকারের এই চেহারা দেখে হেফাজত হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে এবং হতবুদ্ধি হয়ে গেছে। তবে হেফাজতের নিয়ন্ত্রণাধীন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হলো তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে তারা হয়ত নতুন করে নিজেদের সংগঠিত করতে পারে এবং বড় ধরনের আন্দোলনের চেষ্টা করতে পারে। সেটি করতে পারলে তা হবে তাদের জন্য উত্থান।

তবে হেফাজতের অনেক নেতাই স্বীকার করছেন, বর্তমান সময়টা ভালো সময় নয়। একে তো রোজার মাস, অন্যদিকে করোনার কারণে লকডাউন। হেফাজত সব দিক দিয়েই বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। হেফাজতের একাধিক নেতা বলছেন, সরকার যে সময় অ্যাকশনে নেমেছে, এখন হেফাজত চাইলেও কোন কিছু করতে পারছে না। কারণ ছাত্ররা রোজা রাখছে, আবার লকডাউনের কারণে চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কিন্তু সংগঠনের উগ্রবাদী নেতাদের মতে, যদি সরকার অ্যাকশন চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে বাধ্য হয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে হবে, তখন হেফাজত স্বরূপে ফিরে আসবে। ঈদের পরেই এরকম একটি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন কেউ কেউ।

আর এটা যদি তারা শেষ পর্যন্ত করতে পারে, তাহলে হেফাজত বাংলাদেশে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এই ধরপাকড়ের ধারায় যদি হেফাজত নিশ্চুপ থাকে, যদি ক্রমশ সংকুচিত হয়, বিভক্ত হয়, তাহলে হেফাজতের পতন আসন্ন।

কাজেই এই ধরপাকড়ের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটি বুঝতে হলে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!