আওয়ামী লীগে আসছে অনেক পরিবর্তন!

0

বিশেষ সংবাদদাতা:

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিপুল বিজয়ের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগঠনের দিকে মনযোগী হয়েছে। টানা ক্ষমতায় থাকার জেরে সংগঠন যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সাংগঠনিকভাবে দল যেন দুর্বল না হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর এজন্য আওয়ামী লীগ তার সংগঠনকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

নির্বাচনের পরই আওয়ামী লীগের প্রথম লক্ষ্য হলো দলের অঙ্গ সংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনঃগঠন করা, তাদের সম্মেলন আয়োজন করা। নির্বাচনের কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বেশকিছু অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। পর্যায়ক্রমে এসব সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনের সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্বের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সম্মেলন হয় না এমন সংগঠনগুলো দ্রুত সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে। আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগ তার কেন্দ্রীয় জাতীয় কাউন্সিল করতে চায়। সেটা সামনে রেখে তার আগেই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করা হবে। এছাড়াও খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অসমাপ্ত সম্মেলনগুলো শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইসাথে আওয়ামী লীগে যোগদানের ব্যাপারেও কঠোর নিয়মনীতি চালু হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথসভায় বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় পেয়েছে। এখন আওয়ামী লীগে যোগদানের হিড়িক পড়বে। অনেক সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগে এসে বদনাম করতে চাইবে। স্যাবোটাজ করানোর জন্যও অনেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাইবে। এ ব্যপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করা যাবে না বলে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিগত সময়ে স্থানীয়ভাবে বিএনপি-জামায়াত থেকে বহুলোক এসে আওয়ামী লীগে ভিড়েছিল। এখন অনুমতি ছাড়া এ ধরনের যোগদান করা যাবে না। এছাড়া ২০০৮-এর পর বিএনপি জামায়াত থেকে যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি তাদের তালিকা চেয়েছেন। ঐ তালিকা প্রাপ্তির পর তারা দলে যোগ দিয়ে কী কী কাজ করেছে তা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দলের কেউ সংগঠনের বদনাম করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়াও দলের সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ধানমন্ডিস্থ কার্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয় ভিডিও নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় এনেছেন। মোবাইল ফোনে তিনি সভাপতির কার্যালয় এবং দলীয় কার্যালয়ে কী হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন। মাঝে মধ্যে নেতাকর্মীদের নির্দেশনাও দেন। দলীয় কার্যালয়ে নিয়ম করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়মিত যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক এখন দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাচ্ছেন। তিনি জানান, আমরা জনসম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে দলকে আরও বিকশিত করতে চাই। সে জন্যই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply