বগুড়ায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে টিম ক্র্যাকড’র শীতবস্ত্র বিতরণ

0

বগুড়া সংবাদদাতা:

টিম ক্র্যাকড ফাউন্ডেশন নামক একটি স্বেচ্ছসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বগুড়ায় অভিভাবকসহ ২৫০ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হলো। আজ বুধবার, ১৬ জানুয়ারি বেলা ১২টায় সদর উপজেলার বালা কৈগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই কম্বল বিতরণ করা হয়।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোকছেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান রনি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস।

টিম ক্র্যাকড সংগঠনের (সোস্যাল ওয়েলফেয়ার) পরিচালক ডঃ রোকনুজ্জামান সোহাগ গণমাধ্যমকে জানান, টিম ক্র্যাকড সংগঠনটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের দৃপ্ত চেতনায় অনুপ্রাণিত সংগঠনটি সব সময় গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং সমাজসেবার সাথে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করে। এরই অংশ হিসেবে স্কুলের ক্ষুদে বন্ধুদের শীতের কষ্ট লাঘব করার জন্য চলতি শীতেই ২য় বারের মত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয় সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম, টিম ক্র্যাকড ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক পল্লব ঘোষ, সহকারী পরিচালক রহমান বাবু ও আব্দুল আউয়াল।

প্রসঙ্গত, টিম ক্র্যাকড ইতিপূর্বে সারাদেশে সাড়া ফেলে দেয়া বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অযত্নে অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে থাকা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার প্রথম শহীদ তোতা মিয়ার সমাধিস্থল পরিস্কার এবং রঙ করা। যাতে সহযোগী ছিল সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগও।

এরও আগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে টিম ক্র্যাকড আরেকটি কাজ করে। বগুড়ার সাতমাথার পার্শ্ববর্তী রেলষ্টেশন কোয়ার্টারের এসডিও বাংলো সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত একাত্তরের বধ্যভূমি, যেখানে ৪/৫শ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল; অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা সেই স্থানটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে সবার সামনে নিয়ে আসেন সদস্যরা। আর সেই বধ্যভূমির পবিত্র মাটি ছুঁয়ে শপথ করে শুরু করে রাখেন আরেকটি দৃষ্টান্ত। ছিন্নমূল, অবহেলিত ও পথশিশুদের জন্য সূচনা করেন “প্রভাতফেরী পাঠশালা”র।

সেই শিশুরা যেমন সেখানে স্কুলের পড়া তৈরি করে, অন্যদিকে অক্ষরজ্ঞানহীন শিশুদের হাতেখড়ি হয়। সদস্যরা নিজেদের চা নাস্তার পয়সা বাঁচিয়ে শিশুদের নাস্তা করায়, অসুখ হলে চিকিৎসা করায়, ঔষধ কিনে দেয়, নতুন কাপড় কিনে দেয়, পিকনিক করে এবং মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনায়।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply