প্রধানমন্ত্রীর নাতি পরিচয়ে প্রতারণা, প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে ফোনে কথাও বলাতেন!

0

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

নিজেকে ‘প্রধানমন্ত্রীর নাতি’ পরিচয় দিয়ে বেকারদের চাকরি দেওয়ার নামে জালিয়াতির অপরাধে ফরিদুল ইসলাম জুয়েল (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জুয়েল গাইবান্ধার সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ব্যবসায়ী হাসান আলী হ’ত্যামামলার প্রধান আসামি। তিনি সদর উপজেলার বল্লমঝাড়ের মাঠেরপাড় গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বিকেলে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে। ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে ফরিদুল ইসলাম জুয়েল চাকরি দেওয়ার নাম করে জালিয়াতি করছেন। তিনি বিশ্বাস অর্জনের জন্য একজনকে প্রধানমন্ত্রী সাজিয়ে কথা বলাতেন। তার ভাই আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির বহিষ্কৃত উপ দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে লোকজনের টাকা হাতিয়ে নিতেন। টাকা ফেরত চাইলে ভিক্টিমদের বিভিন্ন হুম’কি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

ফরিদুল ইসলাম জুয়েল চাকরির কথা বলে গাইবান্ধা সদরের ফুলবাড়ি গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে শাহাদুল ইসলাম (২৪) ও সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাঙ্গামোড়ের রেলের অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী দুলা মিয়ার ছেলে সোহেল রানা (২৫) ও শ্যালক নয়ন মিয়ার (২৩) থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি চাকরির ভেরিফিকেশনের নামে পুলিশের নামেও টাকা হাতিয়ে নিতেন।

শাহাদুল জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির পাশে দোকান দিয়ে তিনি ব্যবসা করতেন। তার বাবার সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে জুয়েল তাকে রেলের বুকিং সহকারী পদে চাকরি নিয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এ জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়।

গত বছরের ২৩ জুন প্রথম দফায় বেশিরভাগ এবং পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট টাকা নেয় জুয়েল। লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত না হওয়ায় জুয়েল তাকে টাকা ফেরত দেবে বলে কথা দেয়। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরেও টাকা মেলেনি। গত ২৬ এপ্রিল টাকা চাইতে গেলে বরং উল্টো হুম’কি ও জেল খাটানোর ভয় দেখায় সে।

দুলা মিয়া জানান, নিজেকে ‘প্রধানমন্ত্রীর নাতি’ পরিচয় দিতেন জুয়েল। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে কেউ কথাও বলেছে। সে তার ছেলে সোহেলকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও শ্যালক নয়নকে রেলওয়ের বুকিং সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

কিন্তু নিয়োগ স্থগিত হওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হ’ত্যার হুম’কি দিয়ে তাড়িযে দেয়া হয়।

সোহেল রানা বলেন, টাকা চাইতে গেলে জুয়েল তাদের সাথে আ-মানবিক আচরণ করে। বাধ্য হয়ে তারা থানায় জালিয়াতির মামলা করেছি।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. মাহফুজার রহমান বলেন, পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। তারা জুয়েলের জালিয়াতির আরো ঘটনা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন। এ জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি আরো তদন্ত চলবে।

শেয়ার করুন !
  • 135
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!