হেফাজত নেতাদের বিচার চেয়ে পদত্যাগকারী হেফাজত নেতাও গ্রেপ্তার

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

মামলা থেকে বাঁচতে ভোল বদলেছিলেন তিনি, তবুও শেষ রক্ষা হলো না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের পরম মিত্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে দেশজুড়ে চালানো তা’ণ্ডবের পর একে একে মামলায় গ্রেপ্তার হচ্ছিল হেফাজতের শীর্ষ নেতারা।

অবস্থা বেগতিক দেখে ভোল বদলে দলের নেতাদের বিচার চেয়ে হেফাজতে ইসলাম থেকে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ভাদুঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সদ্য বাতিল করা কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) রইছ উদ্দিন জানান, তদন্তে হেফাজতে ইসলামের চালানো তা’ণ্ডবে আব্দুর রহিম কাসেমীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালানো তা’ণ্ডবেও তার সংশ্লিষ্টতা ছিল।

এই তা’ণ্ডবের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচার চেয়ে গত ২৩ এপ্রিল হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ এবং জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুর রহিম কাসেমী।

সে দিন সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম কাসেমী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বি’শৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অ-মানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না।

যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও দাবি জানান কাসেমী।

এমনকি সেই বিবৃতিতে তিনি নিজে এমন কর্মকে সমর্থন করেন না, সংগঠনের এমন কর্মে তিনি নিজে জড়িতও ছিলেন না বলে দাবি করেন।

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পৌরসভা কার্যালয়, পৌরমিলনায়তন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সব ঘটনায় ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।

এ মামলাগুলোয় আসামির সংখ্যা ৪১৪ জন, আর অ’জ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩৫ হাজারেরও বেশি।

শেয়ার করুন !
  • 274
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!