বেগানা নারীদের সাথে সম্পর্ক নিয়ে ফয়জী বললেন- মানুষেরই ভুল হয়

0

সময় এখন ডেস্ক:

হেফাজতে ইসলামের সদ্য বাতিলকৃত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নারীঘটিত অপকর্মের পর সংগঠনের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জীরও একই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া নোমান ফয়জী ৪-৫ জন নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছেন। বলেছেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে।’

বৃহস্পতিবার (৬ মে) নগরীর নাসিরাবাদে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক হেফাজত নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জীর কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি মোবাইলে এ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা জানান।

এর আগে, বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের একটি দল কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে। তার বাবা নোমান ফয়জী হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন।

জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে বৃহস্পতিবার হাটহাজারী থানায় সাম্প্রতিক সহিং’সতার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেপ্তারের সময় জাকারিয়া নোমান ফয়জীর কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধারের তথ্য দিয়ে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাকারিয়া নোমান বিবাহিত। কিন্তু মোবাইল ফোনের সূত্রে আমরা জানতে পারি— ৪-৫ জন নারীর সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আমরা এ বিষয়ে আগেই অবগত ছিলাম।

মোবাইলে এর প্রমাণ পেয়েছি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন, একাধিক নারীর সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক ও গোপন সম্পর্ক ছিল।

মোবাইলে মেসেঞ্জার অ্যাপে কয়েকজন নারীর সঙ্গে অনৈতিক কথোপথনের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, বেশকিছু চ্যাটিং পেয়েছি, যাদের সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আমাদের হাতে সেগুলো আছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা সেগুলো এখন প্রকাশ করব না।

এই নারীদের সঙ্গে যে তার যোগাযোগ ছিল এবং অনৈতিক সম্পর্ক ছিল, সেগুলো এই চ্যাটিংয়ে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি নিজেও আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য আমরা বের করব এবং মামলার তদন্তের সঙ্গে এগুলো সংযুক্ত করব।

আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বলেছি যে, আপনাদের (হেফাজতে ইসলাম) যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বা আপনি যে বেশভূষা নিয়ে চলেন, তার সঙ্গে আপনার এই চরিত্র সাংঘর্ষিক কি না, সেটার সাথে মেলে কি না? তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, মানুষ মাত্রেরই ভুল হয়— বলেন পুলিশ সুপার।

কত জনের সঙ্গে জাকারিয়া নোমান ফয়জী অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ‍৪-৫ জনকে শনাক্ত করেছি, তাদের পরিচয় পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা এখন এগুলো বলতে চাচ্ছি না। তদন্ত যখন এগিয়ে যাবে, আমাদের তদন্ত যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে অনুযায়ী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা সব ধরনের সঠিক তথ্য সরবরাহ করব।

এখন শুধু এটুকু বলছি যে, কারও কারও সঙ্গে তার অনৈতিক মনস্তাত্বিক সম্পর্ক ছিল, কারও কারও সঙ্গে তার গোপনে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তিনি কিন্তু বিয়ে করেছেন, এরপরও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক— এটাও একটা ক্রিমিনাল অফেন্স।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও না’শকতার ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘ’র্ষে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।

এর মধ্যেই গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টে বেগানা নারী নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হন মামুনুল হক। জানা যায়, রিসোর্টে মামুনুলের সঙ্গে যে নারী (ঝর্ণা) ছিলেন, তার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত তিনি। তবে মামুনুল ওই নারীকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। ওইদিন তাকে হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রিসোর্ট ভেঙে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ঘটনার দিন সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মী‌দের আসামি করে ৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় মামুনুল হক প্রধান আসামি। মামলা দায়েরের পর মামুনুল বেশ কিছুদিন পালিয়ে বেড়ালেও গত ১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানায় গত বছর দায়ের করা এক মামলায় বর্তমানে রিমান্ডে আছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার বৈবাহিক কোনো সম্পর্ক নেই। কয়েকটি শর্ত দিয়ে চুক্তিভিত্তিক একটি সম্পর্ক রেখেছেন তিনি।

এর মধ্যে আবার ৩ এপ্রিলের পর থেকেই নিরুদ্দেশ ছিলেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। তার বাবা ও ছেলে ‍দু’জনেই তার সন্ধান চেয়ে আলাদা আলাদাভাবে থানায় জিডি করেছিলেন। পরে ২৯ এপ্রিল তাকে খুঁজে বের করে পুলিশ।

পরদিন ৩০ এপ্রিল জান্নাত আরা ঝর্ণা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামুনুল হকের নামে বিয়ের আশ্বাসে ধ- এর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন !
  • 572
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!